লেটেস্ট নিউজ

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা: পিএম আবাস যোজনার নতুন নিয়ম কার্যকর, এখন থেকে কেবল এরাই পাবেন সুবিধা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বর্তমান সময়ে নিজের একটি পাকা বাড়ি থাকা প্রত্যেক মানুষের স্বপ্ন। কিন্তু ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ মানুষের পক্ষে এই স্বপ্ন পূরণ করা সহজ নয়। সাধারণ মানুষের এই প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র সরকার ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র মাধ্যমে শহরের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে বাড়ি কেনা বা তৈরির জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।

সম্প্রতি সরকার ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা শহর ২.০’ (PMAY-U 2.0)-এর আওতায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সুবিধাভোগীদের ওপর।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা কবে শুরু হয়েছিল?

কেন্দ্র সরকার ১ এপ্রিল ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (শহর) শুরু করেছিল। এরপর যোজনার দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ PMAY-U 2.0 কার্যকর করা হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে। এই পর্যায়ের লক্ষ্য হলো আগামী পাঁচ বছরে শহরাঞ্চলে বসবাসকারী অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি (EWS), নিম্ন আয় বর্গ (LIG) এবং মধ্যবিত্ত আয় বর্গের (MIG) পরিবারগুলিকে পাকা ঘর নিশ্চিত করা।

কোন কোন শ্রেণি এই সুবিধা পায়?

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় তিনটি আয় বর্গকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:

  • আর্থিক দুর্বল শ্রেণি (EWS): বার্ষিক আয় সীমা ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
  • নিম্ন আয় বর্গ (LIG): বার্ষিক আয় সীমা ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
  • মধ্যবিত্ত আয় বর্গ (MIG): বার্ষিক আয় সীমা সর্বোচ্চ ৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

যোগ্য সুবিধাভোগীদের বাড়ি তৈরি বা কেনার জন্য সর্বোচ্চ ২.৫ লক্ষ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১.৫ লক্ষ টাকা কেন্দ্র সরকার এবং ১ লক্ষ টাকা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। এছাড়া হোম লোনের ক্ষেত্রে ১.৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুদে ভর্তুকিও পাওয়া যায়। বস্তিবাসী, হকার এবং কর্মজীবী মহিলাদের এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

পিএম আবাস যোজনা শহর ২.০-এ নিয়মে কী বদল এল?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কেবল তারাই এই যোজনার সুবিধা পাবেন যাদের নামে ৩১ আগস্ট ২০২৪-এর আগে জমির মালিকানা ছিল। এই তারিখের পরে জমি কেনা বা রেজিস্ট্রি করা ব্যক্তিরা বাড়ি তৈরির জন্য সরকারি অনুদান পাবেন না।

পাশাপাশি শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, জমিটি অবশ্যই আবাসিক এলাকায় হতে হবে। অনাবাসিক এলাকার জমিতে এই সুবিধা মিলবে না। এখন প্রকল্পের টাকা পাওয়ার জন্য ‘এলিজিবিলিটি বেনিফিশিয়ারি সার্টিফিকেট’ বা যোগ্য হিতাধিকারী শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর জন্য আবেদনকারীকে প্রকল্পের অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের পর পুরসভা বা স্থানীয় প্রশাসনের টিম সরজমিনে গিয়ে যাচাই করবে। তদন্তে সব ঠিক থাকলে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে এবং তার ভিত্তিতে চারটি কিস্তিতে সহায়তার টাকা দেওয়া হবে।

কোন কোন নথি প্রয়োজন হবে?

যোগ্যতা প্রমাণের জন্য আবেদনকারীকে দেখাতে হবে যে তিনি ৩১ আগস্ট ২০২৪-এর আগে সংশ্লিষ্ট স্থানে বসবাস করছিলেন। এর জন্য পুরনো বিদ্যুৎ বা জলের বিল, পুরসভার প্রপার্টি ট্যাক্স রসিদ বা পুরনো ভোটার তালিকায় নাম থাকার মতো নথি চাওয়া হতে পারে। এছাড়া সরকার জিও-ট্যাগিং এবং স্যাটেলাইট ইমেজিংয়ের সাহায্য নিয়ে সত্যতা যাচাই করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *