প্রয়াত রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়, রেখে গেলেন কত টাকার সম্পত্তি
বাংলার রাজনীতির দীর্ঘসময়ের ‘চাণক্য’ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী মুকুল রায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সল্টলেকের অ্যাপোলো হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুত্র শুভ্রাংশু রায়। গত কয়েক বছর ধরেই তিনি ডিমেনশিয়া, পারকিনসন এবং হাইড্রোসেফালাসের মতো বার্ধক্যজনিত নানা জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারও করা হয়েছিল। ২০২২ সাল থেকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও বাংলার রাজনৈতিক বিবর্তনে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মুকুল রায় দলের সাংগঠনিক বিস্তারে প্রধান কারিগর ছিলেন। ২০১১ সালে বাম শাসনের অবসান এবং তৃণমূলের উত্থানে তাঁর কৌশল ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে তিনি জাহাজ চলাচল প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সারদা ও নারদকাণ্ডের আবহে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় তিনি ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেন এবং সেখানেও দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে পুনরায় তৃণমূলে ফিরলেও আইনি জটিলতায় তাঁর বিধায়ক পদ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে সুশৃঙ্খল মুকুল রায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। রাজনৈতিক উত্থান-পতন এবং বর্ণময় কর্মজীবন সত্ত্বেও তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল অত্যন্ত সীমিত। সাম্প্রতিক নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, এই হেভিওয়েট নেতার মোট সম্পত্তির পরিমাণ মাত্র ৫০.৮৫ লক্ষ টাকা। তাঁর প্রয়াণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

