প্রশান্ত মহাসাগরে ফুটছে জল, ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকরী ‘সুপার এল নিনো’! – এবেলা

প্রশান্ত মহাসাগরে ফুটছে জল, ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকরী ‘সুপার এল নিনো’! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেড়শো বছরের রেকর্ড ভাঙার মুখে প্রকৃতি, ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকরী সুপার এল নিনো!

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে তৈরি হওয়া এক চরম আবহাওয়াজনিত সংকট বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সংকেত দিচ্ছে। মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা নোয়া (NOAA) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ‘সুপার এল নিনো’ সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮২ শতাংশ। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, মহাসাগরের তলদেশে তাপমাত্রা যেভাবে অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে, তাতে বছরের শেষ নাগাদ এটি এক মহাবিনাশী রূপ নিতে পারে। এই প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে আগামী ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত পুরো পৃথিবী এক চরম উষ্ণতার মধ্য দিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেড় শতাব্দী আগের সেই ভয়াবহ স্মৃতি

বিজ্ঞানীদের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, এবার ‘ওশান নিনো ইনডেক্স’ ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে, যা মানব ইতিহাসে এর আগে কেবল ১৮৭৮ সালের জানুয়ারি মাসে দেখা গিয়েছিল। সে সময় এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে গত ৮০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, যার ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রাণ হারান। বর্তমানে শিল্পায়নের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা এমনিতেই আগের চেয়ে ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ, যার ফলে এই নতুন সংকট পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলবে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বিপর্যয়

প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যাওয়ার এই চরম অবস্থাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। এর প্রভাবে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মৌসুমি বায়ু বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা তীব্র খরা ও ভূগর্ভস্থ জলর সংকট তৈরি করবে। কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্যশস্যের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে এবং দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তার অভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়া, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হওয়া, বনে দাবানল এবং তীব্র তাপদাহের কারণে জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আধুনিক বিশ্বের উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও আবহাওয়ার আগাম বার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় সরকারগুলো প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে এই সুপার এল নিনো যেভাবে ধেয়ে আসছে, তাতে আন্তর্জাতিক স্তরে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে বৈশ্বিক সম্পদ ও ব্যবস্থাপনা এই মহাসংকটের মুখে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।

এক ঝলকে

  • ২০২৬ সালের মে-জুলাইয়ের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ।
  • সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই হার ১৮৭৮ সালের পর অর্থাৎ গত ১৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
  • এর প্রভাবে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে তীব্র খরা, খাদ্য সংকট, দাবানল এবং চরম তাপদাহের আশঙ্কা রয়েছে।
  • অতীতের তুলনায় পৃথিবীর বর্তমান তাপমাত্রা বেশি থাকায় এই জলবায়ু পরিবর্তন আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *