প্রশাসনের মদতেই মুর্শিদাবাদে পরিকল্পিত হিংসা! বিচার চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হুমায়ুন কবীর

বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে লাগামহীন রাজনৈতিক হিংসা ও চরম অশান্তি। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের চরম নিষ্ক্রিয়তা এবং পরিকল্পিত অশান্তিতে মদত দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—এই দুই কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে বিজয়ী এই প্রার্থী অবিলম্বে হিংসা রোধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
অভিযোগের তির প্রশাসনের দিকেই
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যে ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, তাকে নিছকই বিক্ষিপ্ত অশান্তি বলে মানতে নারাজ হুমায়ুন কবীর। তাঁর দায়ের করা মামলার মূল অভিযোগ হলো, এই হিংসা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত এবং স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশের প্রচ্ছন্ন মদতেই তা অবাধে সংঘটিত হচ্ছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণ ভোটার ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজনৈতিক এই সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটিয়ে এলাকায় শান্তি ফেরানোর তাগিদেই তিনি শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের এই পথ বেছে নিয়েছেন।
ডিভিশন বেঞ্চে মামলা ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই তাৎপর্যপূর্ণ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিচারব্যবস্থার শীর্ষ স্তর যদি এই মামলায় কড়া অবস্থান গ্রহণ করে, তবে মুর্শিদাবাদের স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বড়সড় জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক হিংসা দমনে হাইকোর্ট যদি নিরপেক্ষ তদন্ত বা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের মতো কোনও কড়া নির্দেশিকা জারি করে, তবে তা গোটা রাজ্যের নির্বাচনোত্তর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী আইনি নজির হয়ে উঠবে। প্রশাসনের ব্যর্থতার মুখে দাঁড়িয়ে আদালতের এই সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার হওয়া সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে ন্যায়বিচারের আশা জাগাচ্ছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
