প্রশ্ন তৈরি করেও জানবেন না কোন পরীক্ষার জন্য! প্রশ্নফাঁস রুখতে এনটিএ-র চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদন: নিট-ইউজি (NEET-UG) সহ এনটিএ (NTA) পরিচালিত বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশ্নপত্র তৈরির গোটা পদ্ধতিটিই বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা। আগামী বছর থেকে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নতুন পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- জিরো-ট্রাস্ট আর্কিটেকচার: প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় মানুষের হস্তক্ষেপ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার জন্য এনটিএ ‘জিরো-ট্রাস্ট আর্কিটেকচার’ প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। এই পদ্ধতিতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর ভরসা না করে একটি সুরক্ষিত প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
- অজ্ঞাত প্রশ্নভাণ্ডার: নয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন তৈরি করবেন না। তাঁদের কাজ হবে একটি কেন্দ্রীয় প্রশ্নভাণ্ডারে প্রচুর প্রশ্ন জমা দেওয়া। ওই বিশেষজ্ঞরা জানতেই পারবেন না যে, তাঁরা যে প্রশ্নগুলো তৈরি করছেন, তা নিট, জয়েন্ট এন্ট্রান্স নাকি অন্য কোনো পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হবে। ফলে কোনো ব্যক্তির পক্ষে আগে থেকে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া আসাম্ভব হয়ে পড়বে।
- স্বয়ংক্রিয় নির্বাচন: এনটিএ একটি বিশাল প্রশ্নভাণ্ডার গড়ে তুলবে, যেখানে প্রায় ১০,০০০ প্রশ্ন জমা থাকবে। পরীক্ষার ঠিক আগে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই বিশাল ভাণ্ডার থেকে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন বেছে নিয়ে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমেই প্রশ্নের ধরন, কাঠিন্যের মাত্রা এবং সিলেবাসের বন্টন নির্ধারণ করা হবে।
- অনুবাদ প্রক্রিয়ায় এআই (AI): চলতি বছরের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অনুবাদকদের ভূমিকা প্রকাশ্যে আসার পর এই ক্ষেত্রেও বড় সংস্কার আনা হচ্ছে। এনটিএ জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র অনুবাদের প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাত্র ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে মানুষের সাহায্য নেওয়া হবে, যাতে অনুবাদের নির্ভুলতা যাচাই করা যায়।
কেন এই পরিবর্তন?
সম্প্রতি নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের তদন্তে নেমে সিবিআই পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যার বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ এবং অনুবাদককে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে উঠে আসে যে, প্রশ্নপত্র তৈরির প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল। এই অভিজ্ঞতার পর সরকার উপলব্ধি করেছে যে, বর্তমান পরিকাঠামোয় মানুষের কারসাজি রোধ করা কঠিন। সেই কারণেই এই পরিকাঠামোগত আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে এনটিএ, যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবেই মেধাবী পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা না হয়।
