প্রেমিকের এক নির্দেশেই ভয়াবহ কাণ্ড! দিল্লির আগুনে ৩ মৃত্যুর নেপথ্যে নাবালিকা, সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লির তুঘলকাবাদে পাঁচতলা বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও তিনজনের মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা মনে করা হলেও পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক প্রতিশোধ নিতে প্রেমিকের প্ররোচনায় এক নাবালিকা ইচ্ছাকৃতভাবে ওই বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ এবং আটককৃতদের জেরার পর এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে দিল্লি পুলিশ।
গত শুক্রবার ভোর তিনটে নাগাদ তুঘলকাবাদের ওই আবাসিক ভবনে আকস্মিক আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো পাঁচতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত আটজন গুরুতর দগ্ধ হন। আহতদের দ্রুত অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পঙ্কজ, সুশীলা দেবী এবং সোনিয়া কুমারী নামে তিনজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে আরও দুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নজরকাড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক রহস্যময়ী নারীর উপস্থিতি পায়। দেখা যায়, আগুন লাগার ঠিক কিছুক্ষণ আগে মুখ ঢাকা এক নারী ওই বাড়িতে প্রবেশ করে এবং সে বেরিয়ে আসার পরপরই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এই সূত্রের ওপর ভিত্তি করে ১৭ বছর বয়সি এক নাবালিকাকে আটক করে পুলিশ। জেরায় ওই নাবালিকা স্বীকার করে যে, সে ভবনের নিচে থাকা একটি মোটরবাইকে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। তবে এই কাজ সে নিজের ইচ্ছায় করেনি, বরং তার এক ‘দিদি’ এবং প্রেমিকের নির্দেশে করেছে।
পারিবারিক শত্রুতার জের ও অপরাধের প্রভাব
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এই অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সরিতা (২৭), নিরঞ্জন (৩৩) এবং রাজকুমার (২৭) নামের তিনজনের নাম উঠে এসেছে। জানা গেছে, ওই বাড়ির বাসিন্দা দীপক নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার আত্মীয় নিরঞ্জনের কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিবাদ চলছিল। সেই শত্রুতার প্রতিশোধ নিতেই দীপকের বাইক পুড়িয়ে দেওয়ার ছক কষে নিরঞ্জন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরঞ্জন ও রাজকুমার ওই নাবালিকার হাতে পেট্রল এবং দেশলাই তুলে দেয়। অভিযুক্ত যুবকদের সাথে সরিতা ও নাবালিকার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারীদের আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
