লেটেস্ট নিউজ

প্রেমিকের সাথে পালানোর ছক, শ্বশুরবাড়িতে সিঁধ কেটে শ্রীঘরে খোদ ‘গুণধর’ বধূ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তমলুক: প্রেমিকের হাত ধরে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন গৃহবধূ শ্রাবণী হাজরা। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল আইনের ফাঁস। নন্দকুমারের ধিতাইবসান গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে সোনা চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া শ্রাবণী ও তাঁর প্রেমিক সন্তু সাউকে পুনরায় পাঁচ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

চুরির নেপথ্যে ‘ফিল্মি’ চিত্রনাট্য

গত ১০ জানুয়ারি রাতে জয়কান্ত হাজরার বাড়িতে আলমারি ও বক্স খাট ভেঙে প্রায় ৬০ গ্রাম সোনা চুরি হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ পুত্রবধূ শ্রাবণীর গতিবিধিতে সন্দেহ প্রকাশ করে। তাঁর কল লিস্ট পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য— চুরির দিন প্রেমিকের সঙ্গে ১৬ বার কথা বলেছিলেন তিনি। পুলিশের ম্যারাথন জেরায় শেষমেশ ভেঙে পড়েন শ্রাবণী এবং স্বীকার করেন, প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর খরচ জোগাতেই এই চুরির ছক কষেছিলেন তিনি।

সোনার ভাগাভাগি ও উদ্ধার

শনিবার তমলুক আদালতে পেশ করা হলে সরকারি আইনজীবী সফিউল আলি খান জানান, ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু চোরাই সোনা উদ্ধার হয়েছে। তবে জোড়া বালা এখনও নিখোঁজ। বাকি গয়না উদ্ধারের স্বার্থেই ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁদের ফের পুলিশি হেপাজতে পাঠানো হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অপরাধ জগৎ

তদন্তে জানা গিয়েছে, চার বছরের সন্তান ও স্বামীকে ছেড়ে সবংয়ের বাসিন্দা সন্তুর সঙ্গে ঘর বাঁধার পরিকল্পনা ছিল শ্রাবণীর। সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয়ের পর গভীর হওয়া প্রেমই তাঁদের ঠেলে দেয় অপরাধের পথে। গত ২১ জানুয়ারি পুলিশ শ্রাবণী ও সন্তুকে গ্রেপ্তার করে। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই ঘরের দরজা খোলা রেখে প্রেমিককে চুরিতে সাহায্য করেছিলেন এই তরুণী। আপাতত পুলিশি ঘেরাটোপে নিজেদের ‘ভুল’ খতিয়ে দেখছেন এই যুগল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *