ফলতায় অশান্তি রুখতে কমিশনের নজিরবিহীন অ্যাকশন! জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের হাশিমনগর এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। শুক্রবারের পর শনিবারও দফায় দফায় সংঘর্ষ ও উত্তেজনার জেরে পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠায় নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দুই নেতা ইস্রাফুল চোকদার এবং সুজাদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একইসঙ্গে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি হলে খোদ সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সন্ত্রাসের কেন্দ্রে বাইক বাহিনী
শনিবার সকাল থেকেই অভিযোগ ওঠে যে, ইস্রাফুল চোকদারের নেতৃত্বে একদল যুবক বাইক বাহিনী নিয়ে বিজেপি সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা ও গ্রাম ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন থেকেই এই এলাকায় ভোট কারচুপির চেষ্টা হয়েছে এবং এখন নির্বাচন পরবর্তী হিংসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা টহল দিচ্ছেন। পুলিশ লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করলেও গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে রীতিমতো চাপে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
কমিশনের হুঁশিয়ারি ও প্রশাসনিক চাপ
নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থান রাজ্যের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কমিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক রং না দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। এই নির্দেশের ফলে পুলিশ প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, কারণ নির্দেশ পালনে কোনো প্রকার বিচ্যুতি ঘটলে সরাসরি দায়ভার বর্তাবে পুলিশের ওপর। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কমিশনের এই কঠোর বার্তা এলাকা থেকে সন্ত্রাস দূর করতে এবং আইন-শৃঙ্খলার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এক ঝলকে
- ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ দুই নেতা ইস্রাফুল চোকদার ও সুজাদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে এফআইআর-এর নির্দেশ।
- ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।
- হাশিমনগরে বিজেপি কর্মীদের মারধর ও গ্রাম ছাড়ার হুমকির অভিযোগে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি।
- পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভের জেরে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
