ফলতায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত: গোটা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

ফলতায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত: গোটা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার অন্তিম লগ্নে এক চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের গত ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ বাতিল করে গোটা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের (Repoll) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাতে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানিয়েছে, আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি বুথেই নতুন করে ভোট নেওয়া হবে এবং এই কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২৪ মে। এর ফলে ৪ মে রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ফল প্রকাশিত হলেও, ফলতার ভাগ্য নির্ধারিত হবে আরও ২০ দিন পর।

কারচুপি ও সিসিটিভি বিভ্রাটের জের

দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন থেকেই ফলতা কেন্দ্রটি ছিল খবরের শিরোনামে। ইভিএমে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতীকের ওপর আঠা বা টেপ লাগিয়ে রাখার একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এছাড়াও অভিযোগ ওঠে, বহু বুথে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের স্ক্রুটিনি রিপোর্টে দেখা গেছে, দুপুর ১টা পর্যন্ত যখন ইভিএমের ত্রুটি ধরা পড়ে, ততক্ষণে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছিল। এই ব্যাপক অনিয়মের রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পুরো ভোট প্রক্রিয়া বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক উত্তাপ

কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট তথা পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার সক্রিয়তা নিয়ে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এবার গোটা কেন্দ্রে পুনর্ভোটের নির্দেশে শাসক দল একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছে যে, ফলতায় স্বচ্ছ ভোট হলে ফলাফল অন্যরকম হবে। ৪ মে রাজ্যের সরকার গঠনের সমীকরণ স্পষ্ট হয়ে গেলেও, ২৪ মে ফলতার একক ফলাফল কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *