ফেসবুক প্রেম থেকে দুই সন্তানের মা, এখন হিন্দু! ‘বাংলাদেশি’ স্ত্রীকে ফেরত না পাঠাতে গুজরাত সরকারের পায়ে স্বামী – এবেলা

ফেসবুক প্রেম থেকে দুই সন্তানের মা, এখন হিন্দু! ‘বাংলাদেশি’ স্ত্রীকে ফেরত না পাঠাতে গুজরাত সরকারের পায়ে স্বামী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আহমেদাবাদ: ফেসবুকের প্রেম, কাঁটাতারের বাধা পেরিয়ে ভারতে আসা এবং দীর্ঘ এক দশক সংসার করার পর হঠাৎই নেমে এলো চরম বিপর্যয়। গুজরাত পুলিশের বিশেষ অভিযানে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে গ্রেফতার হলেন দুই সন্তানের জননী এক বাংলাদেশি তরুণী। এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর ভারতীয় স্বামী তরুণ পটেল। তাঁর কাতর আর্জি, “আমার স্ত্রীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবেন না, ও এখন হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছে। ওখানে পাঠালে চরমপন্থীরা ওকে মেরেই ফেলবে!”

কী ঘটেছিল?

গুজরাত জুড়ে বর্তমানে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে ‘অপারেশন ডেল্টা হান্ট’ নামে রাজ্যব্যাপী একটি বড়সড় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আনন্দ লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ কাজল নামের ওই তরুণীকে বৈধ নথিপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে আটক করে। পুলিশি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসেই সমগ্র গুজরাত থেকে ৬০০-র বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফেসবুকের প্রেম থেকে সাতপাকে বাঁধা:

লম্ভবেল গ্রামের বাসিন্দা তরুণ পটেল জানান, ২০১২-১৩ সাল নাগাদ ফেসবুকে বাংলাদেশের মেয়ে কাজলের সঙ্গে তাঁর আলাপ ও প্রেম হয়। আইন মেনে বিয়ে করার জন্য কাজল বাংলাদেশে পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। পরিবারের চাপে অন্য কোথাও বিয়ে করতে রাজি না হয়ে অবশেষে কাজল একপ্রকার বাধ্য হয়েই বেআইনি পথে ভারতে চলে আসেন। এরপর তাঁরা হিন্দু রীতিনীতি মেনে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাঁদের ৮ ও ২ বছরের দুটি সন্তান রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে মানবিকতার আবেদন:

তরুণ জানান, তাঁর স্ত্রী সম্পূর্ণ সনাতন জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত এবং নিয়মিত মন্দিরে যেতেন। বর্তমানে কাজলকে একটি মহিলা আশ্রয় হোমে রাখা হয়েছে এবং সেখান থেকেই তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর (পুশব্যাক) আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এই পরিস্থিতিতে গুজরাতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সঙ্ঘবীর কাছে হাতজোড় করে আবেদন জানিয়েছেন তরুণ। তাঁর সাফ কথা, ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য যেকোনো আইনি প্রক্রিয়া মানতে তাঁরা প্রস্তুত, কিন্তু সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে যেন কাজলকে তাড়িয়ে দেওয়া না হয়। মায়ের জন্য কাঁদছে তাঁদের ৮ বছরের বড় ছেলেও।

এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে আনন্দ জেলার পুলিশ সুপার কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে আহমেদাবাদ রেঞ্জের আইজি রাঘবেন্দ্র বৎস জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটির বিস্তারিত রিপোর্ট নেওয়ার পরেই এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *