ফোন করেও হল না শেষরক্ষা, তারাতলা বিপর্যয়ে প্রাণ হারালেন মন্নু! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫। এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৩৩ জন। বুধবার দুপুরে ঘটা এই দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বিহারের এক শ্রমিক মন্নু কুমারের বাঁচার লড়াই সাময়িক আশার আলো জাগিয়েছিল। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁকে উদ্ধার করা গেলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হল ওই যুবককে।
ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বাঁচার আকুতি
বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা মন্নু কুমার তাঁর পরিবারের আরও ৫ সদস্যের সঙ্গে তারাতলার ওই অভিশপ্ত গোডাউনে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। বুধবার ভবনটি ভেঙে পড়ার পর টানা ১৪ ঘণ্টা কংক্রিটের নিচেই আটকে ছিলেন তিনি। রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ প্রবল মৃত্যুভয়ের মাঝেই নিজের আত্মীয় সন্তোষকে ফোন করে তিনি আর্তি জানিয়েছিলেন, “আমাকে বাঁচা।” এরপরই দ্রুত তৎপর হয় পুলিশ। মোবাইল ফোনের সিগন্যাল ট্র্যাক করে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা নাগাদ তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়।
বিপর্যয়ের কারণ ও চরম পরিণতি
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, তারাতলায় ওই নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনটির নির্মাণকাজে মারাত্মক গাফিলতি ও ত্রুটির কারণেই হুড়মুড়িয়ে এই ধস নামে। এই দুর্ঘটনার মর্মান্তিক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ভিনরাজ্য থেকে আসা হতদরিদ্র শ্রমিক পরিবারগুলোর ওপর। মন্নুর পরিবারের এক সদস্য ঘি কুমারের মৃতদেহ ইতিমধ্যেই বিহারে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের আরও তিন সদস্য বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং অপর এক সদস্যের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। একটি আস্ত পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা নির্মাণকাজের নিরাপত্তা এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষার অভাবকে আরও একবার প্রকাশ্যে এনেছে।
