‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ অতীত, ২০২৭-এর সংকল্পে বিশ্বমঞ্চে স্বনির্ভর ভারতের জয়যাত্রা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অগ্রগতির এক উজ্জ্বল চিত্র উপস্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির লালকেল্লা থেকে বিগত ১২ বছরের যাত্রাপথ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, একসময় বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ভারতকে দুর্বল বা ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ (Fragile Five)-এর তালিকায় রাখা হতো, সেই ভারতই আজ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর অনেক স্বপ্ন থাকলেও কাঙ্ক্ষিত গতি অর্জনে বাধা এসেছিল। তবে শেষ এক দশকে সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। অতীতে যেসব দেশ বাইরের আর্থিক চাপের মুখে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, সেই তালিকা থেকে বেরিয়ে এসে ভারত আজ আন্তর্জাতিক স্তরে এক নতুন আত্মবিশ্বাসের নাম।
আত্মনির্ভরতা ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র সাফল্য
ভারতের এই অগ্রগতির মূল ভিত্তি হিসেবে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির ওপর বিশেষভাবে জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। অন্য দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোই যে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সেরা পথ, তা তিনি স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেন। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘স্বদেশি’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’ আন্দোলনের সাফল্য আজ কোটি কোটি ভারতবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।
পরিসংখ্যানে অগ্রগতির চিত্র
গত ১২ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জিত ঐতিহাসিক সাফল্যের কিছু মূল তথ্য তিনি জনসমক্ষে আনেন:
- প্রতিরক্ষা উৎপাদন: চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন: সাত গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- আধুনিক রেল কোচ: উৎপাদন বেড়েছে ২১ গুণ।
- ইন্টারনেট সংযোগ: ব্যবহারকারীর সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে।
- ডিজিটাল লেনদেন: অভাবনীয় সাফল্য, বেড়েছে ১০০ গুণ।
এর পাশাপাশি, ঘরে ঘরে পাইপের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছানো, এলপিজি গ্যাসের সহজলভ্যতা এবং শৌচাগার নির্মাণের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমানের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে বলেও তিনি জানান।
ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, পুরনো ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। দেশকে নিরন্তর সংস্কারের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে দেশকে সমৃদ্ধির এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে ১৪০ কোটি ভারতবাসী আজ এক হয়ে এগিয়ে চলেছে—লালকেল্লা থেকে সেই দৃঢ় আস্থার বার্তাই দিলেন নরেন্দ্র মোদী।
