বকেয়া ২৮টি ক্যাগ রিপোর্ট পেশ বিধানসভায়! আমফান দুর্নীতি থেকে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর বুধবারই বড় ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তার ঠিক তিন দিনের মধ্যেই শনিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল জমানার ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ের মোট ২৮টি ক্যাগ (CAG) রিপোর্ট পেশ করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। শুধু তাই নয়, এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্টগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বিধানসভায় একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকারও ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কালীঘাট বা তৃণমূল শিবিরের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
৫ বছরের বকেয়া অডিট ও সাংবিধানিক ত্রুটি
শনিবার বিধানসভায় যে ২৮টি CAG রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে, তার প্রতিটিই ২০২১ থেকে ২০২৫-এই পাঁচ বছরের তৃণমূল জমানার। অভিযোগ উঠেছে, একটানা ক্ষমতায় থাকাকালীন বিগত ৫ বছরে সরকার এই অডিট রিপোর্টগুলি বিধানসভায় পেশ করেনি। নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভায় ক্যাগ রিপোর্ট পেশ না করা হলে তা নিয়ে আইনগত কোনো পদক্ষেপ বা ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ (ATR) নেওয়া সম্ভব হয় না।
এই প্রসঙ্গে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পূর্ববর্তী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি জানান, “কোনো জানা এবং অজানা কারণে গত কয়েক বছর ধরে এই CAG রিপোর্টগুলো আমাদের বিধানসভায় পেশ করা হয়নি। এটা একটা বড় সাংবিধানিক ত্রুটি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা সামনের দিনে পুরো একটা স্পেশাল সেশন করতে চাই, এই CAG রিপোর্টগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য। কারণ এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই রিপোর্ট দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন, বাংলা কেন আর্থিকভাবে পিছিয়ে।”
উঠে এল আমফান দুর্নীতির প্রসঙ্গ
নির্বাচনের আগেই রাজ্যে পরিবর্তন এলে তৃণমূল জমানার দুর্নীতির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সেইমতো গত বুধবারই বিধানসভায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হোন আর যত বড় নেতাই হোন, দুর্নীতি ধরা পড়লে তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্যপালের কাছে এফআইআর (FIR) দায়েরের সুপারিশ করা হবে।” এর ঠিক তিন দিনের মাথাতেই ক্যাগের রিপোর্ট পেশ হওয়ায় নতুন করে সামনে এসেছে ২০২০ সালের আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতির প্রসঙ্গ।
সে সময় আমফানের ত্রাণ বিলি নিয়ে স্বজনপোষণ ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়েছিল এবং কলকাতা হাইকোর্ট ক্যাগ-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল মণীশ কুমার জানিয়েছেন, “আমফানে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। একই ব্যক্তিকে একাধিকবার বেনিফিশিয়ারি করা হয়েছে। একই ছবি একাধিকবার ব্যবহার করে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের বিরোধী শিবিরের তরফ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “আমরা চাই আলোচনা হোক, আমফান নিয়ে আলোচনা হোক। তখন অনেকে বলার সুযোগ পাবেন।” তবে এত বড় আর্থিক অনিয়ম ও ক্যাগ রিপোর্ট পেশের পরেও কালীঘাট বা তৃণমূল শিবিরের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া না আসায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
