বঙ্গের দ্বিতীয় দফাতেও উপচে পড়া ভোট, ২১-এর রেকর্ড ছাপিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলা! – এবেলা

বঙ্গের দ্বিতীয় দফাতেও উপচে পড়া ভোট, ২১-এর রেকর্ড ছাপিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার পর দ্বিতীয় দফাতেও বজায় থাকল রেকর্ড ভোটদানের ধারা। রাজ্যের ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ২০২১ সালের পরিসংখ্যানকে অনায়াসেই ছাড়িয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এই আসনগুলিতে ভোট পড়েছিল ৮০.৪ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের মতে, স্বাধীনতার পর বঙ্গে দুই পর্ব মিলিয়ে এটাই সর্বোচ্চ ভোটদান। উৎসবের মেজাজে ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে গণতন্ত্রের বড় জয় হিসেবে দেখছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

ভোটার তালিকা সংশোধন ও আতঙ্কের প্রভাব

ভোট শতাংশের এই উলম্ফনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ৯১ লক্ষ অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬০ লক্ষই ছিলেন মৃত বা স্থানান্তরিত। মোট ভোটারের প্রায় ৮-৯ শতাংশ ভুয়া নাম বাদ যাওয়ায় গাণিতিক নিয়মেই ভোটের হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের মনে একটি আতঙ্ক কাজ করেছে যে, এবার ভোট না দিলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব বা পরিচয় সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে ভিনরাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরাও বিপুল সংখ্যায় এলাকায় ফিরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

ফলাফলে পরিবর্তনের নতুন সমীকরণ

অত্যধিক ভোটদান সাধারণত কোনো রাজনৈতিক ঝড়ের বা বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অতীতে একে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া হিসেবে দেখা হলেও, সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনে শাসক দলের পক্ষেও এমন জনজোয়ার দেখা গিয়েছে। এই বর্ধিত ভোট কার বাক্সে যাবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রভাব যদি শাসকের প্রতিকূলে যায় তবে বিজেপির লাভের সম্ভাবনা থাকে, আবার এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে জনমত তৈরি হলে তৃণমূল কংগ্রেস শেষ হাসি হাসতে পারে। আপাতত বড় ব্যবধানে জয়ের স্বপ্ন দেখছে দুই শিবিরই।

এক ঝলকে

  • দ্বিতীয় দফার ১৪২ আসনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট রেকর্ড করা হয়েছে।
  • ২০২১ সালের তুলনায় এবার ভোটদানের হার বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।
  • ভোটার তালিকা থেকে ৯১ লক্ষ ভুয়া নাম বাদ পড়া এবং ভোটারদের সচেতনতাই এই বৃদ্ধির মূল কারণ।
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এই অভূতপূর্ব ভোটদানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *