বদলে গেছে বাংলা, এবার ঠেলা সামলান! অভিষেককে নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ – এবেলা

বদলে গেছে বাংলা, এবার ঠেলা সামলান! অভিষেককে নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সোনারপুরে প্রবল জনরোষের মুখে পড়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় এবার রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। গতকালের এই নজিরবিহীন ঘটনার পর আজ সকালে এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে রাজ্যকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আক্রান্ত অভিষেককে একের পর এক হাসপাতাল ফিরিয়ে দেওয়ার পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যেতে বাধ্য হন। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

জনরোষ বনাম অতীতের অভিজ্ঞতা

সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে অভিষেক ব্যানার্জিকে ঘিরে ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ‘চোর চোর’ স্লোগানের পাশাপাশি তাঁকে লক্ষ্য করে ঢিল, ডিম ও জুতো ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নিরাপত্তার স্বার্থে সাংসদকে হেলমেট পরিয়ে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ‘জনরোষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। অতীতের এক দুর্বিষহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে তিনি জানান, যখন বিজেপি নেতা জে পি নাড্ডার গাড়িতে পাথর ছোঁড়া হয়েছিল, তখন তিনিও সেই গাড়িতে ছিলেন। গাড়িটি বুলেট প্রুফ না হলে সেদিন তাঁদের প্রাণহানি ঘটতে পারত। দিলীপ ঘোষের মতে, তৎকালীন ঘটনা যদি জনরোষ হয়, তবে অভিষেকের ওপর ঘটে যাওয়া এই ঘটনাও জনরোষ। বাংলায় যে আর কোনো ‘নাটক বা গিমিক’ চলবে না, তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক প্রভাব

এই ঘটনার পেছনে তৃণমূল সরকারের আমলের ‘থ্রেট কালচার’ এবং অপরাধীদের পুলিশি সুরক্ষা দেওয়ার দীর্ঘদিনের অভ্যাসকে দায়ী করেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি দাবি করেন, জমানা বদলে গেছে এবং এখন পুলিশ দিয়ে তৃণমূল নেতাদের পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে বাঁচতে তিনি তৃণমূল নেতাদের আপাতত বাড়ি থেকে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, এই হামলার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন অভিষেক ব্যানার্জি ও মমতা ব্যানার্জি। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিষেক আদালত ও পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার কথা বলেছেন। মমতা ব্যানার্জিও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শাসক-বিরোধী সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র রূপ নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *