বদলে গেল লোকভবনের প্রবেশদ্বারের নাম, রবীন্দ্রনাথ-ক্ষুদিরামের নামে ৬টি গেটে বসল নেমপ্লেট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও সরকারের পরিবর্তনের পর থেকেই একাধিক রাস্তা এবং প্রতিষ্ঠানের নামকরণের খবর সামনে এসেছে। এমনকি কিছুদিন আগেই রাজভবনের নাম পাল্টে রাখা হয়েছে ‘লোকভবন’। তবে এবার রাজ্যবাসীর নজর কেড়েছে লোকভবনের অন্দরের একটি বড় বদল—এই ভবনের ৬টি প্রবেশদ্বারের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। বাংলার ইতিহাস, সাহিত্য, সমাজ সংস্কার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের অমর ব্যক্তিত্বদের নামেই এবার সেজে উঠেছে লোকভবনের এই গেটগুলি।
লোকভবনের ৬টি গেটের নতুন নামকরণ বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ৬ জন মহান ব্যক্তিত্বের নামেই এই গেটগুলির নামকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণের প্রবেশদ্বারটি রাখা হয়েছে সাহিত্যসম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের নামে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান গেটটির নামকরণ করা হয়েছে ‘কবিগুরু দ্বার’।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়, মহান চিকিৎসক ও রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়, সাঁওতাল বিদ্রোহের বীর নায়ক সিধু-কানহো এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের কনিষ্ঠতম শহীদ ক্ষুদিরাম বসু। লোকভবনের আনাচে-কানাচে বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাসের এই মেলবন্ধন সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
কোন গেটের কী নাম হলো?
- দক্ষিণ দিকের প্রবেশদ্বার: ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র দ্বার
- সাধারণ মানুষের প্রবেশের গেট: কবিগুরু দ্বার
- কলকাতা হাইকোর্টের পাশের গেট (যেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ করেন): বিধানচন্দ্র রায় দ্বার
- পূর্ব দিকের গেট: সিধু-কানহো দ্বার
- উত্তর-পূর্ব দিকের গেট: রাজা রামমোহন রায় দ্বার
- উত্তর-পশ্চিম দিকের গেট: শহীদ ক্ষুদিরাম দ্বার
নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। এর ফলে লোকভবনের প্রতিটি কোণে বাংলার গৌরবময় ইতিহাস সুন্দরভাবে ফুটে উঠবে। শুধু নামবদলই নয়, গেটগুলির নান্দনিক সৌন্দর্য বাড়াতে খোদাই করা টাইলস বসানো হয়েছে এবং প্রতিটি গেটে একটি করে অশোক স্তম্ভও স্থাপন করা হয়েছে।
