বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে খাবারে পোকা মেলায় আইআরসিটিসির ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা
দেশের অন্যতম প্রিমিয়াম ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের খাবারের মান নিয়ে বড়সড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে। আমেদাবাদ থেকে মুম্বাইগামী এই ট্রেনে এক যাত্রীর খাবারে পোকা পাওয়ার ঘটনাটি কেবল রেলের পরিষেবা নিয়েই প্রশ্ন তোলেনি, বরং যাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। ৬ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখের এই ঘটনাটি বর্তমানে রেল মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও যাত্রীদের আতঙ্ক
মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী আদিত্য দিদওয়ানিয়া ওই দিন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করছিলেন। যাত্রাপথে তাঁকে পরিবেশন করা খাবারে পোকা দেখতে পেয়ে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। তিনি দ্রুত এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) শেয়ার করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি কেবল একটি প্লেটেই সীমাবদ্ধ ছিল না; একই কোচের আরও অন্তত দুজন যাত্রী তাঁদের খাবারেও একই ধরনের অস্বাস্থ্যকর উপাদান খুঁজে পান। এই খবর জানাজানি হতেই পুরো কোচের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই তৎক্ষণাৎ খাওয়া বন্ধ করে দেন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড়
আদিত্য দিদওয়ানিয়ার পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, বন্দে ভারতের মতো একটি হাই-প্রোফাইল ট্রেনে যদি খাবারের এই দশা হয়, তবে সাধারণ ট্রেনের মান নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, নিরাপত্তার খাতিরে তাঁরা এখন ট্রেনের খাবারের ওপর ভরসা হারিয়ে বাড়ি থেকে আনা খাবার বা বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। কেউ কেউ রেলের টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
আইআরসিটিসির কঠোর পদক্ষেপ
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC) দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থাকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসাথে সরবরাহকারীর চুক্তি বাতিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। যে বেস কিচেনে খাবার তৈরি করা হয়েছিল, সেটি সিল করে দিয়ে কঠোরভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কীটপতঙ্গ দমনের (Pest Control) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইআরসিটিসি এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য যাত্রীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাও চেয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ
ভুক্তভোগী যাত্রী আদিত্য দিদওয়ানিয়া দাবি করেছেন যে, রেলের খাবার যেন ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (FSSAI)-এর মানদণ্ড মেনে তৈরি করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। রেলের ক্যাটারিং পরিষেবায় নিয়োজিত বিক্রেতাদের ওপর নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াতের এই মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা গেলে রেলের ভাবমূর্তি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- ঘটনার তারিখ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬।
- রুট: আমেদাবাদ থেকে মুম্বাইগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেস।
- মূল অভিযোগ: খাবারে পোকা পাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশন।
- নেওয়া ব্যবস্থা: খাদ্য সরবরাহকারীকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা ও চুক্তি বাতিলের নোটিশ।
- রান্নাঘর সংক্রান্ত পদক্ষেপ: সংশ্লিষ্ট কিচেন সিল এবং সম্পূর্ণ স্যানিটাইজেশনের নির্দেশ।
