‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করলেই ৩ বছরের জেল! সংসদ জুড়ে পাস ঐতিহাসিক বিল, বাড়ল আইনি সুরক্ষা – এবেলা

‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করলেই ৩ বছরের জেল! সংসদ জুড়ে পাস ঐতিহাসিক বিল, বাড়ল আইনি সুরক্ষা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর অবমাননা রূখতে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবার সংসদ জুড়ে পাস হয়ে গেল। গত ২৯ জুলাই (বুধবার) রাজ্যসভায় অনুমোদিত হওয়ার পর, আজ ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদ ও হট্টগোলের মাঝেই বিলটি লোকসভাতেও পাস হয়। উভয় কক্ষে অনুমোদনের পর বিলটি এখন চূড়ান্ত আইনি সিলমোহরের জন্য রাষ্ট্রপতি দাসের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

এই নতুন সংশোধনী আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো, জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-র মতোই সমান আইনি সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রদান করা। কেন্দ্র ১৯৭১ সালের ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন’-এ এই সংশোধনী এনেছে। এর আগে এই আইনে শুধুমাত্র জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীত অবমাননাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ‘বন্দে মাতরম’।

কী সাজা হতে পারে? এই আইন কার্যকর হওয়ার পর—

  • ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করা বা অনাদর করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
  • কেউ যদি বন্দে মাতরম গাওয়ায় বাধা দেয় বা কাউকে এটি গাইতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তাহলেও তা অপরাধ বলে ধরা হবে।
  • দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব: চলতি বছরেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই কালজয়ী দেশাত্মবোধক গানের ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। ১৮৭৫ সালে রচিত এই গানটি ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে প্রকাশিত হয়েছিল এবং ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এটি গান হিসেবে পরিবেশন করেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রতীক এই গানকে অবশেষে জাতীয় সঙ্গীতের সমকক্ষ আইনি মর্যাদা দিল সংসদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *