বন্ধ হচ্ছে রেস্তরাঁ আর কারখানা, ইরান যুদ্ধের কোপে কি এবার গণছাঁটাইয়ের রক্তচক্ষু – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের বারুদের গন্ধে ভারী হচ্ছে ভারতের অর্থনৈতিক আকাশ। ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়েছে সাধারণ মানুষের রুটিরুজিতে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, একে করোনার ভয়াল দিনগুলোর সঙ্গে তুলনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি ও গ্যাসের তীব্র সংকটে ধুঁকছে দেশের শিল্প থেকে পরিষেবা ক্ষেত্র।
জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দাম আর জোগানে টান পড়ায় সবথেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন গিগ ওয়ার্কাররা। সুইগি, জোমাটো, ব্লিঙ্কিট বা উবারের মতো অ্যাপ নির্ভর পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত লক্ষ লক্ষ কর্মীর আয় একধাক্কায় অনেকটা কমে গিয়েছে। কলকাতার বেশ কিছু নামী রেস্তরাঁ ইতিমধ্যেই ঝাঁপ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, অনেক জায়গায় কাটছাঁট করা হয়েছে খাবারের মেনুতে। পরিবহণ ক্ষেত্রে অটো ও ক্যাব চালকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর হচ্ছে।
শুধু পরিষেবা নয়, সংকটের কালো মেঘ ঘনিয়েছে ভারী ও ক্ষুদ্র শিল্পেও। হাওড়ার জালান ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে আসানসোল-দুর্গাপুরের ইস্পাত ও সিমেন্ট কারখানা— সর্বত্রই উৎপাদনের গতি কমিয়ে ‘ধীরে চলো’ নীতি নেওয়া হয়েছে। ডিজেল ও বাণিজ্যিক গ্যাসের আকালে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংগঠন ‘ফসমি’ এবং হোটেল ও রেস্তরাঁ সংগঠন ‘এইচআরএআই’ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজ্যে কয়েক লক্ষ মানুষ কাজ হারাতে পারেন। মিষ্টি শিল্পেও গ্যাসের অভাবে হাহাকার শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র না ছুটেও এক নিঃশব্দ অর্থনৈতিক মন্দার কবলে দেশ তথা রাজ্য, যেখানে কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান এখন খাদের কিনারে।

