‘বন্ধুর সাথে কাজ করতে যাচ্ছি’ বলে বের হয়ে হারিয়ে বসলেন কিডনি! সল্টলেকে বড় চক্রের পর্দাফাঁস – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিশেষ প্রতিনিধি: কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সল্টলেকের এক যুবকের কিডনি বিক্রি করে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠল তাঁরই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। প্রতারণার শিকার যুবকের নাম মঙ্গল মণ্ডল। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী প্রভাস মণ্ডলকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পেছনে কোনো বড় পাচারকারী চক্র বা রে্যাকেট জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে বিধাননগর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, সল্টলেক দক্ষিণ থানা এলাকার ত্রিনাথপল্লির বাসিন্দা মঙ্গল মণ্ডল প্রায় ২০ দিন আগে বাড়ি থেকে বের হন। বাবা-মাকে তিনি জানিয়েছিলেন, পাড়ার ভাড়াটে বন্ধু প্রভাসের সাথে কাজের সূত্রে ভিনরাজ্যে যাচ্ছেন। এর পর দু’জনে পাঞ্জাবের মোহালিতে যান। কিন্তু অভিযোগ, কাজের কথা বলে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে মঙ্গলকে ভুল বুঝিয়ে মোহালির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বলা হয়, এক আশঙ্কাজনক রোগীর প্রাণ বাঁচাতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন। এরপর প্রতারণা করে তাঁর পেটে অস্ত্রোপচার করে কিডনি বের করে নেওয়া হয়।
গত শনিবার মঙ্গল বাড়ি ফিরে এলে তাঁর পরিবারের বিষয়টি নজরে আসে। দেখতে পান, যুবকের পেটের বাঁ দিকে একটি বড় অস্ত্রোপচারের দাগ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সত্য প্রকাশ পায়—কাজের নাম করে নিয়ে গিয়ে তাঁর কিডনি বিক্রি করে দিয়েছে বন্ধু প্রভাসই!
এরপরই গত মঙ্গলবার মঙ্গলের বাবা রামপ্রসাদ মণ্ডল বিধাননগর দক্ষিণ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে প্রভাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে মানব অঙ্গ পাচার ও বাণিজ্যিক লেনদেন প্রতিরোধ আইন, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের মামলা রুজু করা হয়েছে।
বুধবার অভিযুক্তকে বিধাননগর এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রভাসের পেছনে এক প্রভাবশালী অঙ্গপাচারকারী চক্র কাজ করছে। মোহালির ওই বেসরকারি হাসপাতালের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
