বন্যার জলে খেলা করা শিশুর জন্য কাল হলো! শুরু হলো বমি, চলে গেল কোমায় – এবেলা

বন্যার জলে খেলা করা শিশুর জন্য কাল হলো! শুরু হলো বমি, চলে গেল কোমায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভয়াবহ বন্যা আর ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়া নতুন কিছু নয়, কিন্তু সেই জমা জল যে কোনো শিশুর জীবনের জন্য এত বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে তা কেউ কল্পনা করতে পারেনি। মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু এলাকায় সম্প্রতি এমন একটি শিউরে ওঠা ঘটনা ঘটেছে। বন্যার জমা জলে খেলতে নেমেছিল এক শিশু, যা তাকে ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর মুখে। বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় রক্তবমি এবং পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সে দ্রুত কোমায় চলে যায়।

ভয়ঙ্কর পরজীবীর অনুপ্রবেশ

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা শিশুর শারীরিক অবস্থা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান। পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, বন্যার অপরিচ্ছন্ন জলে খেলার সময় একটি জোঁক শিশুর শরীরের মলদ্বার দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছিল। শরীরের অভ্যন্তরে পৌঁছে পরজীবীটি রক্ত শোষণ করতে শুরু করায় শিশুটির অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এই রক্তক্ষরণের কারণেই সে ক্রমাগত রক্তবমি করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে চেতনা হারিয়ে কোমায় চলে যায়।

অসতর্কতার চরম মূল্য

চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শিশুটির শরীর থেকে সেই বিশাল আকৃতির জোঁকটি বের করতে সক্ষম হন। সাধারণত নদী, নালা বা বন্যার জমা জলে এই ধরণের পরজীবী জন্মায় যা মানুষ বা প্রাণীর রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, বন্যার জল কেবল যাতায়াতের সমস্যা বা সম্পদের ক্ষতি করে না, বরং শিশুদের জন্য এটি কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে।

অভিভাবকদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বন্যার জমা জল বা খোলা জলাশয়ে শিশুদের খেলতে দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এক ঝলকে

  • মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানুতে বন্যার জমা জলে খেলতে নেমে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এক শিশু।
  • খেলার সময় শিশুর মলদ্বার দিয়ে একটি রক্তচোষা জোঁক শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে।
  • ক্রমাগত রক্তবমি ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটি কোমায় চলে যায়।
  • চিকিৎসকরা শরীর থেকে জোঁকটি উদ্ধার করেছেন এবং বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *