বর্ষার প্রবেশেই দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ তীব্র ঝড়বৃষ্টির দাপট, উত্তরবঙ্গে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা! – এবেলা
_0.jpg.webp?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
পুরুলিয়া বাদে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব অংশেই আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষা প্রবেশ করেছে। এর প্রভাবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ তীব্র ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পুরুলিয়া এবং ওড়িশার অবশিষ্টাংশেও বর্ষা ঢুকে পড়বে, যার ফলে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জেলায় জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাত ও বৃষ্টি হতে পারে। হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও দুই ২৪ পরগনায় সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। নদিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং দুই বর্ধমানে আগামী শনিবার পর্যন্ত টানা এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে মঙ্গল ও বুধবার ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে। এই লাগাতার বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে নিচু এলাকায় জল জমা এবং সাধারণ জনজীবন সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই ঝড়বৃষ্টির ফলেও আগামী এক সপ্তাহে তাপমাত্রার কোনো উল্লেখযোগ্য হেরফের হবে না, ফলে গরমের অস্বস্তি বজায় থাকবে।
দুর্যোগের নেপথ্যে সক্রিয় অক্ষরেখা
সাধারণত দক্ষিণবঙ্গে ১০ জুন বর্ষা প্রবেশ করলেও, এবার তা সামান্য পিছিয়ে ১২ থেকে ১৩ জুনের মধ্যে এসে পৌঁছেছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পাকিস্তান থেকে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি শক্তিশালী অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এই অক্ষরেখার টানেই বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে, যা মূলত দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গে এই ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই জলীয় বাষ্পের ক্রমাগত জোগানই রাজ্যজুড়ে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি করছে এবং সামগ্রিক দুর্যোগকে ত্বরান্বিত করছে।
