বসিরহাট উত্তরে প্রার্থী বদলের দাবিতে জেলা কার্যালয়ে বিজেপির তুমুল বিক্ষোভ

বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে নারায়ণ মণ্ডলের নাম ঘোষণা হতেই রণক্ষেত্রের রূপ নিল বিজেপির জেলা কার্যালয়। শুক্রবার প্রার্থীর পরিবর্তনের দাবিতে বসিরহাটের দলীয় কার্যালয়ের প্রধান গেট আটকে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয় নেতা ও কর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে জানান যে, কর্মীদের এই দাবি যথাযথভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের প্রধান অভিযোগ হলো প্রার্থীর অতীত পারফরম্যান্স ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা। উল্লেখ্য, নারায়ণ মণ্ডল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। কর্মীদের দাবি, নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় ধরে তাকে কোনো দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায়নি, এমনকি শাসকদলের হাতে আক্রান্ত কর্মীদের পাশেও তিনি দাঁড়াননি। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী এই প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালানো আসাম্ভব বলে মনে করছেন নিচুতলার কর্মীরা। একজন ‘হেরো’ প্রার্থীকে কেন পুনরায় মনোনয়ন দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে আসরে নামেন বিজেপি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য। তিনি স্বীকার করেছেন যে, এর আগেও বসিরহাট উত্তরের কর্মীরা লিখিতভাবে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি ইতিমধ্যেই কর্মীদের বিক্ষোভ ও দাবির রিপোর্ট রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন এবং দল সেই নির্দেশই মেনে চলবে।” তবে নিজের প্রার্থীপদ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া এই তীব্র অসন্তোষ প্রসঙ্গে মুখ খুলতে চাননি নারায়ণ মণ্ডল।
আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে প্রার্থী নিয়ে বিজেপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ পদ্ম শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল। রাজ্য নেতৃত্ব এই দাবি মেনে প্রার্থী পরিবর্তন করেন নাকি নারায়ণ মণ্ডলের ওপরই আস্থা বজায় রাখেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আপাতত নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা।
