‘বাংলা আশঙ্কাজনক অবস্থায়’, রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সোচ্চার অভিষেক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 23, 20267:55 am
রাজ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সংঘাত, হিংসা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি কেবল রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বিষয় নয়, বরং এটি ভীতি প্রদর্শন ও রাজ্য প্রশাসনের চরম উদাসীনতার প্রতিফলন।
অভিষেক তাঁর পোস্টে বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন:
- প্রাক্তন আইপিএস-এর ওপর হামলা: থানা প্রাঙ্গণের ঠিক বাইরেই প্রকাশ্যে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীরকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়। আমজনতাকে সুরক্ষা দেওয়ার মূল প্রতিষ্ঠানের দোরগোড়াতেই যদি এমন হামলা হতে পারে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কার হাতে— সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।
- মিছিলে আক্রমণ: দলীয় কর্মীদের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে সহিংস হামলা চালানো হয়, যার ফলে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে আহতদের পরিবারগুলি মারাত্মক মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে।
- উপাসনা চৌধুরীর ওপর অত্যাচার: রাজনৈতিক হিংসার শিকার উপাসনা চৌধুরীর ওপর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানান অভিষেক। তিনি জানান, উপাসনার পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়, গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং বাড়িতে স্ট্রোক আক্রান্ত বয়স্ক বাবা থাকা সত্ত্বেও সজোরে পাথর বৃষ্টি করা হয়।
তীব্র বার্তা দিয়ে অভিষেক স্পষ্ট করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনওই হিংসা ছড়ানোর লাইসেন্স হতে পারে না এবং কোনো হিংসা ছড়ানোকারীকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা পুলিশ ও প্রশাসনের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। হিংসার মুখে প্রশাসন নীরব থাকলে তা নিরপেক্ষতা প্রকাশ করে না, বরং ভীতি প্রদর্শনকে প্রশ্রয় দেয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলা ভয়ের রাজনীতির চেয়ে অনেক উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি পাওয়ার যোগ্য। আইনের শাসনকে কোনো দলের কাছে বলি দেওয়া যাবে না; বিরোধী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিতে মিছিল করার অধিকার এবং আমজনতার সুরক্ষিত জীবনযাত্রাই এক সুস্থ গণতন্ত্রের পরিচয়।
