বাংলায় EVM বিতর্ক রুখতে নজিরবিহীন কড়াকড়ি! মোতায়েন ১৬৫ অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক ও ৭৭ পুলিশ অবজার্ভার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোটগণনাকে কেন্দ্র করে ইভিএম ও স্ট্রং রুম নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটাতে বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজ্যে ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২০বি ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার বার্তা
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব কেন্দ্রে একাধিক গণনা কক্ষ রয়েছে, সেখানে বাড়তি নজরদারির জন্যই এই অতিরিক্ত পর্যবেক্ষকদের মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ পর্যবেক্ষকরা মূলত গণনা কেন্দ্রের বাইরের আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করবেন, তবে তাঁরা কোনোভাবেই গণনা কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। মূলত ভয়মুক্ত এবং স্বচ্ছ পরিবেশে ভোট গণনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য।
প্রবেশাধিকার ও ডিজিটাল শনাক্তকরণ
এবারের গণনায় কারচুপি রুখতে প্রযুক্তিগত কড়াকড়িও বাড়ানো হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারদের মাধ্যমে প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট এবং কর্মীদের জন্য কিউআর কোড যুক্ত বিশেষ ছবি সম্বলিত পরিচয়পত্র ইস্যু করা হবে। পর্যবেক্ষক ও রিটার্নিং অফিসার ছাড়া আর কারো কাছেই গণনা কক্ষের ভেতরে মোবাইল ফোন রাখার অনুমতি থাকবে না। প্রতিটি টেবিলের মাইক্রো-অবজারভাররা কন্ট্রোল ইউনিটের ফল সরাসরি নোট করবেন এবং প্রতিটি রাউন্ড শেষে তা মিলিয়ে দেখা হবে।
এক ঝলকে
- ভোটগণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক ও ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ।
- গণনা কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি।
- প্রার্থী ও এজেন্টদের জন্য কিউআর কোড ভিত্তিক ডিজিটাল পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক।
- প্রতিটি রাউন্ড শেষে মাইক্রো-অবজারভারদের মাধ্যমে ফলাফল পুনরায় যাচাইয়ের ব্যবস্থা।
