বাংলায় কি তবে উলটপুরাণ! তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে জয়ের নয়া সমীকরণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বুথফেরত সমীক্ষার যাবতীয় পরিসংখ্যানকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। জাতীয় স্তরের অধিকাংশ সমীক্ষায় যখন বাংলায় পদ্ম শিবিরের শক্তিবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট বলছে অন্য কথা। ঘাসফুল শিবিরের দাবি অনুযায়ী, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে তারা ২৩০টি আসনের ম্যাজিক ফিগার অনায়াসেই ছুঁয়ে ফেলছে। এই বিপুল জনসমর্থন বিরোধীদের সব হিসেব উল্টে দেবে বলেই মনে করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
তৃণমূলের এই রিপোর্টে সবচেয়ে চমকপ্রদ দাবি করা হয়েছে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে। রিপোর্ট অনুযায়ী, হেভিওয়েট এই দুই আসনেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পরাজয় নিশ্চিত। নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে জয়ের বিষয়ে শাসক দল সম্পূর্ণ আশাবাদী। মূলত স্থানীয় স্তরে জনমত এবং বুথভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করেই এই আত্মবিশ্বাসী রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে।
জনমতের নেপথ্যে বিশেষ কারণ
শাসক দলের এই সম্ভাব্য জয়ের পেছনে প্রধানত দুটি কারণকে সামনে রাখা হয়েছে। প্রথমত, নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির পক্ষ থেকে বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে বলে তৃণমূলের পর্যবেক্ষণ। দ্বিতীয়ত, ভিনরাজ্যের পুলিশ অফিসারদের সক্রিয়তা এবং আইপিএস অজয় পাল শর্মাদের মতো ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে আমজনতার মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভকেও জয়ের প্রধান অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ভাবাবেগ ইভিএমে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মনে করছে কালীঘাট।
তৃণমূলের এই দাবি সত্যি হলে রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠবে। বিশেষ করে যেসব সমীক্ষা গেরুয়া শিবিরের এগিয়ে থাকার কথা বলছে, সেগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে বাংলার মসনদে কে বসবেন এবং আঞ্চলিক ভাবাবেগের জয় হবে নাকি মেরুকরণের রাজনীতি শেষ হাসি হাসবে।
এক ঝলকে
- তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট অনুযায়ী তারা ২৩০টি আসনে জয়লাভ করতে চলেছে।
- শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর উভয় কেন্দ্রেই পরাজিত হচ্ছেন বলে দাবি।
- বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি’ বলা এবং বহিরাগত পুলিশি প্রভাবকে দলের জয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- বুথফেরত সমীক্ষার বিপরীতে গিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার আশা করছে শাসক দল।
