বাংলায় চাঁদের হাট! রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানে ভিভিআইপিদের বিমান সামলাতে হিমশিম কলকাতা বিমানবন্দর

প্রথমবারের মতো বাংলায় সরকার গঠনের ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে শহরজুড়ে সাজ সাজ রব। বিজেপির এই বিশেষ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে কলকাতায় আসছেন দেশের অন্তত ২৩ জন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ইতিহাসে এত বিপুল সংখ্যক ভিভিআইপি-র সমাগম আগে কখনও দেখা যায়নি। আর এই হাই-প্রোফাইল অতিথিদের গমনাগমন নির্বিঘ্ন করতে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও পার্কিং পরিকল্পনা
শহরের আকাশে ও রানওয়েতে ভিভিআইপি বিমানের চাপ সামলাতে শুক্রবার থেকেই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে আলাদা আলাদা ‘পার্কিং বে’। সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৭ নম্বর বে, অমিত শাহের জন্য ৪ নম্বর এবং রাজনাথ সিংয়ের জন্য ৫ নম্বর বে সম্পূর্ণ সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে। এছাড়া ৬ এবং ৮ থেকে ১১ নম্বর পার্কিং বে বরাদ্দ করা হয়েছে অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের জন্য।
বিমানের ভিড়ে নাজেহাল বন্দর কর্তৃপক্ষ
২৩ জন মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে শহরে আসছে ২০টিরও বেশি ব্যক্তিগত বিমান। এই বিশাল সংখ্যক ছোট বিমানের পার্কিং নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের কাছে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমানের শিডিউল ঠিক রেখে এই বিশেষ বিমানগুলোর জায়গা করে দিতে ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক সেরেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। মুখ্যমন্ত্রীদের ছোট বিমানগুলোর জন্য আলাদা পার্কিং এরিয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে যাতে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
অপ্রত্যাশিত এই বিমানজট সামাল দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করেছে। এই বিশাল আয়োজন কেবল রাজনৈতিক গুরুত্বই বহন করছে না, বরং এত স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক রাষ্ট্রীয় বিমান সামলানোর সক্ষমতা যাচাইয়েও কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য এটি একটি বড় লিটমাস টেস্ট।
