বাংলায় টাটাকে ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, সিঙ্গুরে কি ফের শিল্পের সম্ভাবনা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে ফের বিনিয়োগ করতে চলেছে টাটা গোষ্ঠী। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে এমনই এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাজ্যে শিল্পের প্রসার ঘটাতে টাটাকে ফিরিয়ে আনবেন তিনি। তবে এক দশকেরও বেশি সময় আগে যে সিঙ্গুরকে কেন্দ্র করে টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজ্যের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, সেখানেই ফের এই বিনিয়োগ হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি।
সিঙ্গুরের জমির বর্তমান হাল ও অতীতের ছায়া
বাম আমলে জমি অধিগ্রহণ নীতির বিরোধিতা করে সিঙ্গুর আন্দোলন রাজ্যে ২০১১ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের অন্যতম অনুঘটক হয়ে উঠেছিল। সে সময় বাধ্য হয়ে রাজ্য ছাড়ার আগে রতন টাটা মন্তব্য করেছিলেন, “মমতা বন্দুকের ট্রিগার টিপে দিলেন।” পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অনিচ্ছুক কৃষকরা জমি ফেরত পেলেও, মাটিতে কারখানার রড ও সিমেন্ট মিশে থাকায় তা আর চাষযোগ্য থাকেনি। সরকারি উদ্যোগে সেখানে সর্ষের বীজ ছড়ানো হলেও বাস্তবে কৃষকদের দুর্দশা ঘোচেনি। আক্ষেপ করে অনেক কৃষককেই বলতে শোনা গিয়েছে যে তাঁদের কারখানাও জুটল না, আবার জমিতে চাষও করা গেল না। এই কৃষকদের দীর্ঘদিনের হতাশা এবং রাজ্যে শিল্পের ব্যাপক চাহিদাই ২০২৬ সালের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিনিয়োগের নতুন দিশা ও শিল্পায়নের রূপরেখা
সিঙ্গুরের জমির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবগত। তিনি জানিয়েছেন, কারখানার প্রাথমিক কাজের জন্য ওই জমির মাটির প্রকৃতির বদল ঘটেছে। তবে ইতিমধ্যেই তাঁর কাছে শিল্পের একাধিক নতুন প্রস্তাব এসেছে এবং সেগুলি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার জন্য শিল্পসচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করে দেওয়া হয়েছে। গত সরকারের শিল্পনীতিকে কটাক্ষ করে তিনি জানান, পূর্বতন সরকারের মতো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা কেবল ফোটোসেশনে তিনি বিশ্বাসী নন। নির্বাচনী প্রচারে শিল্পায়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার এই প্রাথমিক উদ্যোগ তারই বাস্তব প্রতিফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত সফল হলে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
