বাংলায় ‘রাম’-এর প্রত্যাবর্তন! মমতার সময় হারিয়ে যাওয়া রাম ফিরলো শুভেন্দুর জমানায় – এবেলা

বাংলায় ‘রাম’-এর প্রত্যাবর্তন! মমতার সময় হারিয়ে যাওয়া রাম ফিরলো শুভেন্দুর জমানায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রামমোহন কলেজের নাম থেকে ‘রাম’ মুছে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তুমুল রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক দানা বেঁধেছিলো কলকাতার উত্তর অংশে। আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার ঠিক বিপরীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামফলক থেকে ‘রাম’ শব্দটি উধাও হয়ে যাওয়ার ছবি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। শেষ পর্যন্ত তীব্র বিতর্কের মুখে তড়িঘড়ি রং-তুলি দিয়ে কলেজের নামের সেই হারিয়ে যাওয়া অংশ পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

একই ভবনে তিনটি ভিন্ন বিভাগের পাঠদান চলে। সকালে মেয়েদের জন্য রামমোহন কলেজ, দুপুরে সিটি কলেজ এবং সন্ধ্যায় আনন্দমোহন কলেজ। সম্প্রতি ভবনটি মেরামতের কাজ চলার সময় কোনোভাবে রামমোহন কলেজের ‘রাম’ অংশটি মুছে যায় এবং কেবল ‘মোহন কলেজ’ দৃশ্যমান থাকে। এটি অসাবধানতাবশত নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যার জেরে তড়িঘড়ি নামের সেই অংশটি পুনরায় লিখে দেওয়া হয়।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও সাম্প্রদায়িক উস্কানির আশঙ্কা

এই ঘটনাকে সাধারণ ভুল হিসেবে দেখতে নারাজ বিরোধীরা। ওই কলেজেরই প্রাক্তন ছাত্র তথা বর্তমান বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ এই ঘটনায় গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। শতবর্ষ প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানের নাম বিকৃতির পেছনে সাম্প্রদায়িক উস্কানির একটি বড় চেষ্টা থাকতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে এবং এর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি উঠেছে।

নাম বিভ্রাটের সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব

শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, ঐতিহ্যবাহী কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন বা আংশিক মুছে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্বে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষত কলকাতার বুকে এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি এবং মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও উস্কে দিতে পারে। আপাতত কলেজের নাম পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা হলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনা আগামী দিনে আমহার্স্ট স্ট্রিট ও সংলগ্ন এলাকার শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *