বাংলার ভোটরঙ্গে এবার ‘সিঙ্গাম বনাম পুষ্পা’ দ্বৈরথ, আইপিএস অফিসারের হুঁশিয়ারিতে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী উত্তাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে একটি ভাইরাল ভিডিও, যার রেশ এখন কলকাতা ছাড়িয়ে দিল্লি ও লখনউ পর্যন্ত পৌঁছেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নির্বাচনী ডিউটিতে থাকা ২০১১ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার একটি হুঁশিয়ারি ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে। ভিডিওটিতে ওই পুলিশ আধিকারিককে স্থানীয়দের উদ্দেশে কড়া ভাষায় বলতে শোনা যায়, নির্বাচনের সময় কোনো প্রকার ‘বদমাশি’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়া হবে। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
ফিল্মি সংলাপ ও রাজনৈতিক লড়াই
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা জাহাঙ্গীর খান। ভিডিওটিতে পুলিশ আধিকারিক বারবার জাহাঙ্গীরের নাম নিয়ে তাঁর সমর্থকদের সতর্ক করছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় জাহাঙ্গীর খান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ঢঙে বলেন, “যদি উনি ‘সিঙ্গাম’ হন, তবে আমি ‘পুষ্পা’। খেলা আপনি শুরু করেছেন, শেষ আমরা করব।” তিনি আরও দাবি করেন যে, এটি উত্তরপ্রদেশ নয় বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ, তাই এখানে ‘ইউপি কালচার’ চলবে না। শাসক দল অভিযোগ করেছে যে, বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই ভিন রাজ্যের পুলিশ অফিসারদের ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে।
অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের পাহাড়
এই ঘটনায় তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজবাদী পার্টিও। অখিলেশ যাদব সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর কোনো অফিসারই রেহাই পাবেন না এবং প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে। অন্যদিকে, বিজেপি এই কড়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে দুষ্কৃতীদের দমনে এজাতীয় কঠোর বার্তার প্রয়োজন ছিল। এরই মধ্যে এক মহিলার করা শ্লীলতাহানির অভিযোগ আইপিএস অফিসারের অস্বস্তি বাড়ালেও, তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁরা ‘পুষ্পা’র মতোই কারও সামনে মাথা নত করবেন না।
এক ঝলকে
- দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার কড়া হুঁশিয়ারির ভিডিও ভাইরাল।
- তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান নিজেকে ‘পুষ্পা’ দাবি করে পুলিশকে পালটা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
- বিজেপি এই কড়াকড়িকে সমর্থন জানালেও তৃণমূল এবং সপা একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলছে।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুল উপস্থিতির মধ্যে এই ‘ফিল্মি’ সংঘাত ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
