বাংলার মসনদে মমতার নজিরবিহীন নাটক! নেপথ্যে কি আমেরিকার ‘ডিপ স্টেট’ আর সিআইএ-র হাত? চাঞ্চল্যকর তথ্য

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও, পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলাফল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তিনি পদত্যাগ না করে দাবি করেছেন, এই রায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রায় নয় বরং এটি একটি ‘সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’। এই অনড় অবস্থানের জেরে রাজ্যে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।
জনশক্তির মহড়া ও বড়সড় প্রতিরোধের প্রস্তুতি
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক নজিরবিহীন প্রতিরোধের পরিকল্পনা করছেন। এই কৌশলের অংশ হিসেবে কলকাতায় একটি বিশাল রোড শো-এর আয়োজন করা হতে পারে, যেখানে জাতীয় স্তরের বিরোধী নেতারাও শামিল হতে পারেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব ইতিমধ্যেই সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং আরও কয়েকটি আঞ্চলিক দলের প্রধানদের এই মিছিলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই মঞ্চ থেকেই তিনি রাজ্যপালকে অস্বীকার করার এবং রাজভবনে না যাওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা করতে পারেন। এছাড়া, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া একটি বড় অংশকে এই আন্দোলনে শামিল করে জনশক্তির প্রদর্শন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্তর্নিহিত কারণ ও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা
এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির নেপথ্যে গভীর ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব জোরালো হয়ে উঠছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র ও বিভিন্ন মহলের দাবি, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি সংস্থা বা ‘ডিপ স্টেট’-এর হস্তক্ষেপ থাকতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন এই রাজ্যে ক্ষমতার অদলবদল রুখতে আন্তর্জাতিক মহলের অতি-সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু থেকে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার এবং অতীতে বিভিন্ন নাশকতামূলক কাজে আন্তর্জাতিক সংযোগের যে তথ্য সামনে এসেছে, তা এই রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও সাংবিধানিক ভবিতব্য
বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে পর্যন্ত। যদি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তবে রাজ্যপাল তাঁকে বরখাস্ত করতে পারেন অথবা সংবিধানে বর্ণিত ধারা অনুযায়ী রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে, সরকার গঠনের জন্য সময় পাওয়া গেলে বিজয়ী বিধায়কদের দলবদলের প্রলোভন দেখানোর মতো ‘ঘোড়া কেনাবেচা’র আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়াতে বিদেশি নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর বিপুল অর্থের বিনিয়োগ থাকতে পারে। আগামী কয়েক দিন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
