বাকি বাংলায় ৪ মে, ফলতায় ২৪! তারিখ বদল ঘিরে অভিষেক-মালব্য সংঘাত, তুঙ্গে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ বিতর্ক

আগামীকাল ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি আসনে ভাগ্যনির্ধারণ হলেও ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন নির্দেশে ওই কেন্দ্রের সমস্ত অর্থাৎ ২৮৫টি বুথেই আগামী ২১ মে ফের ভোটগ্রহণ হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ২৪ মে। গণনার এই তারিখ বদল ঘিরেই এবার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক ময়দান। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাক্যযুদ্ধ।
মালব্যের নিশানায় ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’
ফলতায় নজিরবিহীন এই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে তৃণমূলের নৈতিক পরাজয় হিসেবে তুলে ধরেছেন অমিত মালব্য। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে কটাক্ষ করে লেখেন, “ভেঙে চুরমার হয়ে গেল ডায়মন্ড হারবার মডেল।” মালব্যের দাবি, ইভিএম-এ কারচুপি, বিরোধী দলের চিহ্নের ওপর কালো টেপ মারা এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর যে সংস্কৃতি ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত ফলতায় দেখা গিয়েছিল, নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশ তার গালে একটি বড় চড়।
অভিষেকের পাল্টা চ্যালেঞ্জ: ‘দশ জন্ম লাগলেও লাভ নেই’
বিজেপির এই আক্রমণকে বিন্দুমাত্র আমল না দিয়ে পালটা হুঙ্কার ছেড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মালব্যকে উদ্দেশ্য করে তিনি সাফ জানান, “রেজাল্টের তারিখ বদলে দিয়ে কিছুই হবে না। আমার ডায়মন্ড হারবার মডেল ভাঙতে তোমাদের এই বাংলাবিরোধী গুজরাটি গ্যাং-এর দশ জন্ম লাগলেও যথেষ্ট নয়।” অভিষেক আরও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “ভারতবর্ষের সব শক্তি নিয়ে ফলতায় ঝাঁপিয়ে পড়ো। দিল্লি থেকে গডফাদারদের নিয়ে এসে লড়াই করো, তাও এই মডেলের ক্ষতি করতে পারবে না।”
কেন এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের সময় ফলতায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ইভিএম-এর বোতামে কালো টেপ বা আঠা লাগিয়ে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অন্তত ৭৭টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। এছাড়াও ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, অন্তত ৬০টি বুথে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার চরম অবমাননা করা হয়েছে। এই ‘সিভিয়ার ইলেকট্রাল অফেন্স’-এর জেরেই পুরো বিধানসভার ভোট বাতিল করে নতুন করে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফলাফলে প্রভাব ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
আগামীকাল ৪ মে রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই স্পষ্ট হয়ে যাবে কারা নবান্ন দখল করছে। কিন্তু ফলতার ফল আটকে থাকায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনার পারদ বজায় থাকবে। তৃণমূলের দাবি, ফলতার মানুষ ব্যালটেই বিজেপিকে উপযুক্ত জবাব দেবেন। অন্যদিকে, বিজেপির আশা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় ২১ তারিখের ভোট বদলে দেবে ফলতার সমীকরণ।
সব মিলিয়ে ফলতার এই ‘ভোটযুদ্ধ’ এখন আর কেবল একটি বিধানসভার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা পর্যবসিত হয়েছে তৃণমূলের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ বনাম বিজেপির কেন্দ্রীয় কৌশলের লড়াইয়ে।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।
