বাতাসে দুলছে মেসির মূর্তি, এবার নচিকেতার গান টেনে তীব্র কটাক্ষ অভিনেতা ঋত্বিকের! – এবেলা

বাতাসে দুলছে মেসির মূর্তি, এবার নচিকেতার গান টেনে তীব্র কটাক্ষ অভিনেতা ঋত্বিকের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতার লেকটাউনে ফুটবল সম্রাট লিওনেল মেসির ৭০ ফুটের বিশাল মূর্তিটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বাতাসে মূর্তিটি বিপজ্জনকভাবে দুলতে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বড়সড় দুর্ঘটনার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি যেমন উত্তপ্ত, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তীব্র শ্লেষাত্মক মন্তব্য করে নতুন করে চর্চায় এসেছেন বিশিষ্ট অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী।

বিপজ্জনকভাবে দুলছে মূর্তি, আতঙ্কে বাসিন্দারা

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন মন্ত্রী সুজিত বসুর উদ্যোগে ও মন্টি পালের শিল্প নির্দেশনায় এই সুবিশাল মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছিল। স্বয়ং লিওনেল মেসি ভার্চুয়ালি এর উদ্বোধন করেন। তবে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই মূর্তিটির নিচের অংশের মাটি ধসে চারদিকের পাথর ও মাটি বেরিয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য হাওয়াতেই মূর্তিটি প্রবলভাবে দুলছে। এর ঠিক নিচেই একটি জায়ান্ট স্ক্রিন রয়েছে, যেখানে প্রতি সন্ধ্যায় মানুষ আইপিএল ম্যাচ দেখতে ভিড় জমান। ফলে যেকোনো মুহূর্তে মূর্তিটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি আধিকারিক এবং লেকটাউন থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কটাক্ষ ও রাজনৈতিক তরজা

সমসাময়িক যেকোনো জ্বলন্ত ইস্যুতে কৌতুকের মোড়কে খোঁচা দিতে ঋত্বিক চক্রবর্তীর জুড়ি মেলা ভার। লেকটাউনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, “শুনলাম, লেকটাউনে হৃত্বিক রোশন না অজিত আগরকারের মূর্তিটা নাকি নচিকেতার ‘দুলছে হাওয়ায়..’ গানটা গুনগুন করে গাইছে।” অভিনেতার এই ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টের পর মুহূর্তেই নেটপাড়ায় হাসির রোল উঠেছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু এবং স্থানীয় কাউন্সিলর নিতাই দত্ত তড়িঘড়ি অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এই মূর্তিটি তৈরি করেছিলেন। সম্প্রতি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসু ইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই মূর্তির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। বর্তমান বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নজরেও বিষয়টি আনা হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ইঞ্জিনিয়ার ও সরকারি আধিকারিকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর মূর্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে যেকোনো মুহূর্তে এই বিতর্কিত মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হতে পারে বলে জোর জল্পনা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *