বাবা-মায়ের স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে আর সংশয় নয় কোনটি আপনার পরিবারের জন্য সেরা, জেনে নিন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বাবা-মায়ের শরীরের যত্ন এবং তাঁদের চিকিৎসার খরচ সামলানো বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এক বড় চ্যালেঞ্জ। বার্ধক্যে স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক, আর সেই কারণেই একটি সঠিক স্বাস্থ্যবিমা থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে অনেক সময় সন্তানরা দ্বন্দ্বে পড়েন যে, বাবা-মায়ের জন্য কি আলাদা বিমা করবেন নাকি নিজের ফ্যামিলি ফ্লোটার প্ল্যানেই তাঁদের নাম জুড়ে দেবেন? এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে আপনার ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা এবং বাবা-মায়ের সঠিক চিকিৎসা।
ফ্যামিলি ফ্লোটার প্ল্যান না কি ব্যক্তিগত বিমা
ফ্যামিলি ফ্লোটার প্ল্যানে সাধারণত স্বামী, স্ত্রী এবং সন্তানদের রাখা হয়। এখানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বা ‘সাম অ্যাশিউরড’ পুরো পরিবারের জন্য বরাদ্দ থাকে। যদি আপনার বাবা-মায়ের বয়স কম হয় এবং তাঁরা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন, তবে তাঁদের এই প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা সাশ্রয়ী হতে পারে। এতে প্রিমিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক কম হয় এবং একটিমাত্র পলিসি রক্ষণাবেক্ষণ করা সহজ।
অন্যদিকে, বাবা-মায়ের বয়স যদি ৬০ বছরের বেশি হয় কিংবা তাঁদের যদি আগে থেকেই কোনো ক্রনিক অসুখ থাকে, তবে তাঁদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্যবিমা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ বয়স্ক সদস্যদের চিকিৎসার প্রয়োজন বেশি পড়ে। ফ্যামিলি ফ্লোটার প্ল্যানে তাঁদের বড় কোনো চিকিৎসা হলে বিমার সিংহভাগ টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে পরিবারের বাকি সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত কভারেজ অবশিষ্ট থাকে না। আলাদা পলিসি থাকলে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে যা অন্য কারোর চিকিৎসার সঙ্গে মিশে যায় না।
সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিশেষ দিকগুলো
১. বয়স ও শারীরিক অবস্থা: বাবা-মায়ের বয়স ৬০-এর নিচে হলে ফ্লোটার প্ল্যান ভালো, কিন্তু বয়স বেশি হলে আলাদা ‘সিনিয়র সিটিজেন’ পলিসি নেওয়া জরুরি। কারণ এই বিশেষ প্ল্যানগুলোতে বয়স্কদের উপযোগী অনেক বাড়তি সুবিধা থাকে।
২. প্রি-এক্সিস্টিং ডিজিজ বা পুরনো রোগ: যদি বাবা-মায়ের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকে, তবে আলাদা পলিসি নিলে সেই রোগের জন্য নির্দিষ্ট ‘ওয়েটিং পিরিয়ড’ পার হওয়ার পর ভালো কভারেজ পাওয়া যায়।
৩. ট্যাক্স বা কর ছাড়ের সুবিধা: আয়কর আইনের ৮০ডি ধারা অনুযায়ী, নিজের ও পরিবারের বিমার পাশাপাশি বাবা-মায়ের বিমার প্রিমিয়ামের ওপর অতিরিক্ত কর ছাড় পাওয়া যায়। আলাদা পলিসি থাকলে এই সুবিধার সঠিক ব্যবহার করা সম্ভব।
৪. নো ক্লেইম বোনাস: ফ্যামিলি ফ্লোটারে যদি কোনো একজন সদস্য অসুস্থ হন এবং বিমার টাকা ব্যবহার করেন, তবে পুরো পলিসির ‘নো ক্লেইম বোনাস’ নষ্ট হয়। বাবা-মায়ের আলাদা পলিসি থাকলে আপনার নিজের পলিসির বোনাস অক্ষত থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।
পরিশেষে, বিমা বেছে নেওয়ার আগে প্রিমিয়ামের অঙ্ক, কো-পেমেন্ট শর্ত (যেখানে বিলের কিছু অংশ নিজেকে দিতে হয়) এবং নেটওয়ার্ক হাসপাতালের তালিকা অবশ্যই মিলিয়ে দেখে নিন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে নেওয়া একটি সঠিক বিমা পলিসি আপনার প্রিয়জনদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আপনার কষ্টার্জিত সঞ্চয়কেও সুরক্ষিত রাখে।

