‘বাবার কর্তব্য ছেলের ভুল মাফ করাই’— অভিষেকের কোন কথায় আবেগপ্রবণ হলেন কল্যাণ? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা সাম্প্রতিক মান-অভিমান এবং চরম বিতর্কের দ্রুত অবসান ঘটল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি আবেগঘন বার্তার পরেই নিজের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এলেন শ্রীরামপুরের প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশ্যে সংঘাতে জড়ানোর মাত্র কয়েকদিনের মাথাতেই দুই শীর্ষ নেতার এই সমঝোতা রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
তীব্র ক্ষোভ থেকে আবেগঘন সমঝোতা
এই ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, অভিষেকের ঔদ্ধত্যের কারণেই দলকে কটাক্ষ শুনতে হচ্ছে। এমনকি দলনেত্রীকে তাঁর বা অভিষেকের মধ্যে যেকোনো একজনকে বেছে নেওয়ার চরম বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। তবে এই ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মাঝেই শুক্রবার পরিস্থিতি সামাল দেন অভিষেক। তিনি অত্যন্ত পরিপক্বতার সঙ্গে জানান, প্রবীণ নেতা হিসেবে কল্যাণের তাঁকে বকা বা সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ছোটবেলা থেকে তাঁকে বড় হতে দেখা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই এবং তাঁর সম্মান অটুট থাকবে বলেও স্পষ্ট করেন অভিষেক।
একসঙ্গে লড়াইয়ের ডাক ও সম্ভাব্য প্রভাব
অভিষেকের এই সম্মানজনক মন্তব্যে কার্যত দলের অন্দরের যাবতীয় বরফ গলে যায়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে মেনে নেন যে অভিষেক তাঁর ছেলের মতো এবং ছেলের সব ভুল মাফ করে দেওয়াই বাবার কর্তব্য। ব্যক্তিগত রাগ ভুলে তিনি এবার বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। দেশে এবং রাজ্যে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার ডাক দিয়েছেন এই প্রবীণ সাংসদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের এই সুকৌশলী অবস্থান এবং কল্যাণের দ্রুত ইতিবাচক সাড়া দলের অভ্যন্তরীণ একটি বড় ফাটলকে সফলভাবে রোধ করল। এর ফলে দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে।
