বাবার মৃত্যু ও প্রথাগত কোচিংয়ের বাধা পেরিয়ে ইউপিএসসিতে বাজিমাত বিহারের গরিমার! – এবেলা

বাবার মৃত্যু ও প্রথাগত কোচিংয়ের বাধা পেরিয়ে ইউপিএসসিতে বাজিমাত বিহারের গরিমার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পেলেই উঠে আসে একের পর এক অভাবনীয় লড়াইয়ের গল্প। লাখ লাখ টাকা খরচ করে দিল্লির বড় বড় কোচিং সেন্টারে পড়ার চেনা ছককে ভেঙে এক অনন্য নজির গড়েছেন বিহারের বক্সারের বাসিন্দা গরিমা লোহিয়া। জীবনের কঠিনতম ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে, মাথায় কোনো প্রথাগত কোচিং সেন্টারের হাত ছাড়াই, শুধুমাত্র নিজের জেদ এবং মায়ের অদম্য সহযোগিতাকে সম্বল করে সর্বভারতীয় স্তরে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন তিনি।

অনলাইন মাধ্যমই ছিল গরিমার প্রধান হাতিয়ার

আজকের দিনে যখন ইউপিএসসির মতো কঠিন পরীক্ষায় সফল হতে নামী প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হওয়াকে রেওয়াজ মনে করা হয়, সেখানে গরিমা হেঁটেছেন সম্পূর্ণ উল্টো পথে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে অনলাইন শিক্ষার যে জোয়ার এসেছিল, তাকেই নিজের সাফল্যের মূল হাতিয়ার করেছিলেন তিনি। বাড়িতে বসেই ইউটিউব এবং বিভিন্ন অনলাইন শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে ইউপিএসসির জটিল সিলেবাসের খুঁটিনাটি আয়ত্ত করেন। শুরুর দিকে সঠিক স্টাডি মেটেরিয়ালের অভাব থাকলেও, নিজের মেধা ও ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে সেই খামতি পূরণ করে নেন তিনি।

প্রথম ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা ও অনন্য রুটিন

প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও গরিমা দমে যাননি, বরং নিজের রণকৌশল পুরোপুরি বদলে ফেলেছিলেন। নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তিনি পড়াশোনার সময় বাড়িয়ে দিনে গড়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা করেন। তাঁর পড়ার রুটিনও ছিল সাধারণের চেয়ে আলাদা। দিনের চেয়ে রাতে পড়তেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন গরিমা। প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে শুরু করে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত চলত তাঁর একটানা কঠোর অধ্যাবসায়। এই কঠোর পরিশ্রমেরই ফল মেলে ২০২২ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায়, যেখানে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ২ অর্জন করে আইএএস অফিসার হন তিনি।

সাফল্যের নেপথ্যে মায়ের অবদান

বাবার মৃত্যুর পর গরিমার এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের মূল অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর মা। গরিমা যখন রাত জেগে পড়াশোনা করতেন, তাঁর মা-ও তখন জেগে থেকে মেয়ের খাওয়া-দাওয়া ও মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মা বারবার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে না দিলে এই কঠিন পথ অতিক্রম করা সম্ভব হতো না বলে জানান গরিমা। গরিমার এই অভাবনীয় সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক ইচ্ছা ও ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার থাকলে দামি কোচিং ছাড়াও দেশের কঠিনতম পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জন করা সম্ভব, যা আগামী দিনের হাজারো সিভিল সার্ভিস প্রত্যাশীকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *