বায়ুসেনার বিমানে পৌঁছবে নিটের প্রশ্ন, পরীক্ষা সুরক্ষিত করতে নজিরবিহীন তৎপরতা কেন্দ্র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নজিরবিহীন এই কেলেঙ্কারির জেরে প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই আগামী ২১ জুন নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এবার আর কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় প্রশাসন। আগামী দিনের নিট পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলতে প্রতিরক্ষামন্ত্রকের দ্বারস্থ হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রক। সূত্রের খবর, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে প্রশ্নপত্র সুরক্ষিতভাবে পৌঁছে দিতে এবার ভারতীয় বায়ুসেনার (আইএএফ) বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ও প্রধানমন্ত্রীর নজরদারি
প্রশ্নপত্র ফাঁসের পুনরাবৃত্তি রুখতে সম্প্রতি দিল্লিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার উপস্থিতিতে এই বৈঠকে বায়ুসেনার বিমান ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ডিরেক্টর জেনারেল অভিষেক সিং সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা এই বৈঠকে অংশ নেন। যদিও বায়ুসেনার বিমান ব্যবহারের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সমগ্র বিষয়টি নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি নজর রাখছেন এবং ছোট-বড় সব ধরনের আপডেট নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত মিললেই এই পরিকল্পনায় চূড়ান্ত সিলমোহর পড়বে।
প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে পরীক্ষা কেন্দ্র, কড়া সুরক্ষায় গোটা প্রক্রিয়া
বিগত ৩ মে দেশের ৫৫১টি শহর এবং বিদেশের ১৫টি কেন্দ্রে প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষায় বসেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সেই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ২১ জুনের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যাতে নতুন কোনও বিতর্ক না তৈরি হয়, তার জন্য শুরু থেকেই কড়াকড়ি করা হচ্ছে। শুধু প্রশ্নপত্র পরিবহণই নয়, শিক্ষকরা কীভাবে প্রশ্ন তৈরি করছেন, প্রিন্টিংয়ের সময় কীভাবে তা সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা কীভাবে জোরদার করা হবে—এই সমস্ত খুঁটিনা্টি বিষয়ে কড়া নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বায়ুসেনার বিমান ব্যবহারের এই তৎপরতা সফল হলে তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
