বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনা: অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে ঘনীভূত রহস্য, নেপথ্যে কি যান্ত্রিক ত্রুটি? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মহারাষ্ট্রের বারামতিতে রানওয়ের ঢালে আছড়ে পড়ল উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের ব্যক্তিগত বিমান। বুধবার সকালের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার। তবে এই দুর্ঘটনার তিন মিনিট আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে গভীর রহস্য।
শেষ মুহূর্তের সেই ৩ মিনিট
সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে বারামতি বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড কন্ট্রোল থেকে যখন ‘ক্লিয়ার টু ল্যান্ড’ বার্তা পাঠানো হয়, নিয়ম অনুযায়ী কো-পাইলট শাম্ভবী পাঠকের পালটা ‘রজার’ বলার কথা ছিল। কিন্তু ককপিট থেকে আর কোনো উত্তর আসেনি। ঠিক তিন মিনিট পরেই রানওয়ের পাশের নিচু জমিতে মুখ থুবড়ে পড়ে বম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট ৪৫এক্সআর।
তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
- দৃশ্যমানতার অভাব: কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, বারামতির মতো ছোট বিমানবন্দরে নামার জন্য ৫০০০ মিটার দৃশ্যমানতা প্রয়োজন, কিন্তু দুর্ঘটনার সময় তা ছিল মাত্র ৩০০০ মিটার।
- বিপজ্জনক ওঠানামা: রাডার তথ্য অনুযায়ী, ভেঙে পড়ার আগে বিমানটি ২৬০০ ফুট থেকে একবার ২৪০০ ফুটে নেমে আসে, আবার পরক্ষণেই উঠে যায় ২৮০০ ফুটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলটরা সম্ভবত তখনই কোনো বড় যান্ত্রিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন।
- নিশ্চুপ পাইলট: চূড়ান্ত বিপদে পাইলটরা সাধারণত ‘মে ডে’ কল করেন, কিন্তু এক্ষেত্রে তেমন কোনো সংকেত পাওয়া যায়নি। কেন তাঁরা পুনে বিমানবন্দরে না ফিরে বারামতিতেই নামার চেষ্টা করলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বারামতি বিমানবন্দরে আধুনিক ‘ইনস্ট্রুমেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেম’ (ILS) বা নিয়মিত এটিসি টাওয়ার নেই। রিলায়েন্সের অধীনে থাকা এই বিমানবন্দরে পাইলটদের মূলত নিজেদের দেখার ওপর নির্ভর করেই নামতে হয়। উদ্ধার হওয়া ব্ল্যাক বক্স এবং ডিজিটাল ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (DFDR) থেকেই মিলতে পারে এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)।

