বিএএনএস ধারায় রাজ্যে প্রথম সাজা ঘোষণা, মুর্শিদাবাদে ১০ বছরের কারাদণ্ড ১২ জনের

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম অশান্তি ও পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগে ঐতিহাসিক সাজা ঘোষণা করল আদালত। বুধবার মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক শুভদীপ বিশ্বাস ১২ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। নতুন আইনের বিভিন্ন ধারায় দাঙ্গা ছড়ানো এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগে এই রায় প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিচারপ্রক্রিয়া
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও সুতি এলাকায় একটি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদ-পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলরাম পালের বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায়। বলরাম ও তাঁর ছেলে রঞ্জিত পাল প্রাণ বাঁচাতে ঘরে আশ্রয় নিলে অভিযুক্তরা সেখানে ভাঙচুর চালায় এবং তাঁদের গায়ে পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় গুরুত্বর জখম হন বাবা ও ছেলে। ঘটনার তদন্তে নেমে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং সময়মতো চার্জশিট পেশ করায় অভিযুক্তদের জামিন মেলেনি।
ক্ষতিপূরণ ও আইনের প্রভাব
বিচারক শুভদীপ বিশ্বাস দোষী সাব্যস্ত ১২ জনের প্রত্যেককে ৬০ হাজার টাকা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারকে তিন লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য। বিশেষ সরকারি আইনজীবী অঙ্কৃত মুখার্জি জানান, রাজ্যে বিএনএস চালু হওয়ার পর দাঙ্গা ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে এটিই প্রথম সাজা ঘোষণার ঘটনা। দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করে এই রায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই রায়ের ফলে এলাকায় শান্তি ফিরবে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে রাশ টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
