বিচারপতি শর্মার এজলাস বয়কটের ঘোষণা কেজরিওয়ালের, উত্তাল দিল্লির রাজনীতি – এবেলা

বিচারপতি শর্মার এজলাস বয়কটের ঘোষণা কেজরিওয়ালের, উত্তাল দিল্লির রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দিল্লির আবগারি নীতি মামলায় দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আইনি লড়াই এক নজিরবিহীন মোড় নিয়েছে। বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার এজলাসে চলমান সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া বয়কটের ঘোষণা করেছেন তিনি। বিচারপতিকে লেখা একটি চিঠিতে কেজরিওয়াল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, উক্ত আদালতের ওপর তাঁর আর কোনো আস্থা নেই। এই সিদ্ধান্তকে তিনি কোনো বিদ্রোহ নয়, বরং মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত ‘সত্যাগ্রহ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিরোধের নেপথ্য কারণ

কেজরিওয়ালের এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধানত তিনটি গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রথমত, বিচারপতির সন্তানরা কেন্দ্রীয় সরকারের প্যানেলভুক্ত আইনজীবী হিসেবে কাজ করায় স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, ইতিপূর্বে মামলাটি অন্য এজলাসে সরানোর আবেদন খারিজ হওয়া এবং তৃতীয়ত, বিচারপতির একটি বিশেষ আইনি সংগঠনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেজরিওয়াল। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া আসাম্ভব।

প্রভাব ও বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

এই বয়কটের ফলে আবগারি মামলার আইনি প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মা ইতিপূর্বেই কেজরিওয়ালের অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘আদালতের সম্মানহানির চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত আপত্তির কারণে বিচারবিভাগীয় কাজ থমকে যেতে পারে না। তবে কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, আইনি ক্ষতির ঝুঁকি জেনেও তিনি এই এজলাসের কোনো শুনানিতে অংশ নেবেন না।

রাজনৈতিক ও আইনি সংকট

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্ন আদালত থেকে অব্যাহতির পর সিবিআই-এর চ্যালেঞ্জের মুখে কেজরিওয়ালের এই পদক্ষেপ একটি বড় রাজনৈতিক বাজি। তিনি বিচারব্যবস্থার একটি অংশের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যাওয়ার পথ খোলা রাখছেন। এই সংঘাতের ফলে দিল্লির শাসক দল ও বিচারবিভাগের একাংশের মধ্যে দূরত্ব যেমন বাড়ছে, তেমনই জাতীয় রাজনীতিতে এটি এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার আদালত বয়কট করে সরাসরি অনাস্থা প্রকাশ করলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
  • স্বার্থের সংঘাত ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে একে ‘সত্যাগ্রহ’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
  • বিচারপতি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও আদালতের অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
  • মামলাটি নিয়ে আগামীতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আম আদমি পার্টির নেতার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *