বিজয়ের আবহে উগ্রতা রুখতে পথে নামলেন ভাবী বিধায়করা, কড়া বার্তা বিজেপি নেতৃত্বের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পরই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও ভাঙচুরের খবর সামনে আসছে। তবে এই পরিস্থিতিতে প্রতিহিংসার বদলে সংযমের পথ বেছে নিয়েছেন বিজেপির নবনির্বাচিত জনপ্রতিধিনিরা। দলীয় কর্মীদের একাংশের অতি-উত্সাহ বা বিরোধীদের চক্রান্ত রুখতে খোদ বহরমপুর ও সিউড়ির জয়ী প্রার্থীরা রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
দখল করা কার্যালয় থেকে পতাকা খুলে নিলেন সুব্রত-জগন্নাথ
বহরমপুর শহরে একটি পুর পরিষেবা কেন্দ্র দখল করে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সেখানে পৌঁছে যান জয়ী প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। তিনি নিজে হাতে সেই দলীয় পতাকা খুলে ফেলেন এবং সাফ জানিয়ে দেন, কোনো সরকারি দফতর বা দলীয় কার্যালয় দখল করা যাবে না। একই চিত্র দেখা গেছে সিউড়িতেও। সেখানে তৃণমূলের প্রধান কার্যালয় দখল করে বিজেপির হোর্ডিং-ব্যানার লাগিয়ে দিয়েছিলেন কর্মীরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হন জয়ী প্রার্থী জগন্নাথ চ্যাটার্জি। দলীয় পতাকা সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানান, এই ধরনের কাজ বিজেপির সংস্কৃতির পরিপন্থী। ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজে লিপ্ত হলে পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি ও শৃঙ্খলার বার্তা
ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বদলা নয়, বদলাও’ বার্তার রেশ ধরেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনো কর্মী বিশৃঙ্খলায় জড়ালে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। সুব্রত মৈত্রের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে তৃণমূল বা কংগ্রেসের কর্মীরাই বিজেপির নাম ভাঙিয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা আটকাতে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করার পাশাপাশি প্রশাসনিক কড়াকড়ির ওপর জোর দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়ের প্রাথমিক উন্মাদনা সামলে জনমানসে ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতেই জয়ী প্রার্থীদের এই সক্রিয়তা। মূলত পরাজিতের ওপর আক্রমণ রুখে রাজ্যে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখাই এখন নবনির্বাচিত বিধায়কদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
