বিজয়োল্লাসে অশান্তি রুখতে কঠোর শমীক, আইন ভাঙলে গ্রেফতারির হুঁশিয়ারি

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় পালাবদলের পর বিজয়োল্লাসের আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে কড়া অবস্থান নিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের কর্মী-সমর্থকদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, জয়ের উল্লাসে মেতে কোনো প্রকার হিংসা বা দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। বিজেপির নাম করে যদি কেউ অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা করে, তবে দল ও প্রশাসন— উভয় পক্ষই কড়া পদক্ষেপ নেবে।
প্রশাসনকে কড়া হওয়ার নির্দেশ
রাজ্যজুড়ে বিক্ষিপ্ত ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ ওঠার পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট করেন, বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে কেউ যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণ চালায় বা অশালীন আচরণ করে, তবে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এছাড়া সিন্ডিকেট রাজ বা চাঁদাবাজির মতো অভিযোগ উঠলে পুলিশকে দলদাসের মতো আচরণ না করে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সভাপতির কথায়, “প্রশাসন কোনো রং না দেখে ব্যবস্থা নিক। কেউ যদি অটোস্ট্যান্ড বা কারখানা মালিকের কাছে টাকা চায়, তাঁকে দ্রুত গ্রেফতার করুন।”
হিংসামুক্ত নতুন বাংলার চ্যালেঞ্জ
বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে ভোট-পরবর্তী হিংসা এক দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত। গত কয়েক বছরে নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষের মনে যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা দূর করাই এখন নতুন শাসকদলের প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্য তাঁর বার্তার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন যে, ক্ষমতার পরিবর্তন কেবল রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিক সংস্কৃতিতেও আনতে চান তাঁরা। ‘বদল নয়, বদলানো’র যে স্লোগান বিজেপি দিয়ে আসছিল, শান্তি বজায় রাখাই এখন তার প্রথম ও প্রধান পরীক্ষা।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই শ্যামপুকুর বা বেলেঘাটার মতো এলাকায় তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুর ও নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনাগুলোর নিন্দা জানিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সাফ জানিয়েছেন, এই ধরণের নাশকতামূলক কাজে জড়িতরা দলের কেউ নন। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তিনি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিচ্ছেন এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। মূলত আইন-শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনমানসে আস্থা ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
