‘বিজেপি আটকে যাবে ৭৮-এই!’ বিরোধীদের গোপন নথি ফাঁস করে ভোটের মুখে বড় ধামাকা কুণালের

‘বিজেপি আটকে যাবে ৭৮-এই!’ বিরোধীদের গোপন নথি ফাঁস করে ভোটের মুখে বড় ধামাকা কুণালের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা প্রার্থী কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, বিজেপি বিরোধী শিবিরে থাকলেও তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে পরাজয় নিশ্চিত বুঝে গিয়েছে। একটি হাতে লেখা কাগজ দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, গেরুয়া শিবিরের নিজেদের করা বিশ্লেষণ অনুযায়ী তারা রাজ্য বিধানসভায় ৭৮টির বেশি আসন পাচ্ছে না। যদিও এই সমীক্ষা ঠিক কারা করেছেন, সেই নাম তিনি খোলসা করেননি।

তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ও বিশ্লেষণ

কুণাল ঘোষের মতে, বিরোধীরাও মনে মনে নিশ্চিত যে তৃণমূল কংগ্রেস ২০০-র বেশি আসন নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরছে। মেখলিগঞ্জ থেকে শুরু করে প্রতিটি আসন ধরে যে কাটাছেঁড়া করা হয়েছে, তাতে শাসকদল ২৩০ থেকে ২৫০টি আসন পেতে পারে বলে তাঁর দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, এতদিন হাঁকডাক দিলেও বর্তমানে বিজেপি নেতৃত্ব মানুষের রায় মেনে নেওয়ার কথা বলে কার্যত হারের আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই তৃণমূল নেতা।

শীর্ষ নেতৃত্বের ভার্চুয়াল বৈঠক ও রণকৌশল

এদিন বিকেলে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রার্থী ও কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, দল ২০০-র বেশি আসনে জয়ী হতে চলেছে। বুথফেরত সমীক্ষাগুলোকে নাকচ করে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, শেয়ার বাজার চাঙ্গা রাখতেই বিজেপিকে কৃত্রিমভাবে এগিয়ে দেখানো হচ্ছে। ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও একই কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

ভোট পরবর্তী এই রাজনৈতিক চাপানউতোর গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে আরও তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং স্ট্রং রুমে বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল সরব হলেও নির্বাচন কমিশন কড়া নজরদারির আশ্বাস দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কুণাল ঘোষের এই ‘আসন বিশ্লেষণ’ প্রকাশের মূল লক্ষ্য হলো গণনার আগে দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখা এবং বিরোধী শিবিরের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করা।

এক ঝলকে

  • কুণাল ঘোষের দাবি অনুযায়ী বিজেপির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে তাদের আসন সংখ্যা ৭৮-এ সীমাবদ্ধ থাকবে।
  • তৃণমূলের নিজস্ব হিসেবে তারা ২৩০ থেকে ২৫০টি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতেই বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপিকে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে।
  • গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে কঠিন সময়ে লড়াই করা কর্মীদের পুরস্কৃত করার আশ্বাস দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *