বিজেপি রুখতে এবার বামেদের শরণাপন্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিজেপি রুখতে এবার বামেদের শরণাপন্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলার রাজনীতিতে এক সময়ের চরম শত্রু হিসেবে পরিচিত বাম ও তৃণমূলের সমীকরণ কি এবার বদলে যেতে চলেছে? সম্প্রতি কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন অনুষ্ঠানে দলীয় বিধায়কদের উপস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রেক্ষাপটে বিজেপিকে রুখতে তিনি বামফ্রন্টের সাহায্য নিতেও দ্বিধাবোধ করবেন না। এমনকি এই লড়াইয়ে ‘অতি বাম’ বা আলট্রা লেফটিস্টদের সমর্থন পেলেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলে তিনি সরাসরি বার্তা দিয়েছেন।

বিরোধিতা ভুলে বাম-তৃণমূল সমীকরণ

এক সময় বাম শাসন উচ্ছেদ করতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে পাশে পাওয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। তৃণমূল নেত্রীর মতে, বঙ্গে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত রুখতে হলে ধর্মনিরপেক্ষ ও সমমনোভাবাপন্ন শক্তিগুলোর এক হওয়া জরুরি। অতীতের তিক্ততা সরিয়ে রেখে বৃহত্তর স্বার্থে বামেদের এগিয়ে আসার এই আহ্বান কার্যত এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য আসলে হিন্দুত্ববাদী শক্তির বিরুদ্ধে একটি অভিন্ন ফ্রন্ট তৈরির প্রচেষ্টারই অংশ।

সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি

মমতার এই প্রকাশ্য আহ্বানের ফলে তৃণমূলের অন্দরে ও বিরোধী শিবিরের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিজেপির ক্রমবর্ধমান ভোটব্যাংক রুখতে বামেদের একাংশের সমর্থন তৃণমূলে গেলে তা গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাতের পর বাম কর্মী-সমর্থকরা এই আহ্বানকে কতটা ইতিবাচকভাবে নেবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তৃণমূলের এই কৌশলী চাল বিজেপিকে কোণঠাসা করতে কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলবে।

এক ঝলকে

  • বিজেপিকে রুখতে বামফ্রন্ট ও অতি বামেদের সাহায্য চাইলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন অনুষ্ঠানে দলীয় বিধায়কদের সামনেই এই নতুন রাজনৈতিক বার্তা দেন তিনি।
  • ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই কৌশলগত মিত্রতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
  • অতীতের সংঘাত ভুলে বিজেপি বিরোধী জোট গড়ার এই আহ্বান বাংলার রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক ও সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *