বিজেপির নতুন চমক! দিলীপ-অগ্নিমিত্রাদের কার ভাগ্যে কোন মন্ত্রক জুটল জানেন?

১৮তম রাজ্য বিধানসভার নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর এই আনুষ্ঠানিক তালিকা সামনে এসেছে। অভিজ্ঞ সংগঠনক থেকে শুরু করে তরুণ মুখ—সব মিলিয়ে এক ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
একনজরে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর:
| মন্ত্রী | দপ্তর / বিভাগ |
| শুভেন্দু অধিকারী (মুখ্যমন্ত্রী) | স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক, কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার এবং অন্যান্য অবণ্টিত দপ্তর। |
| দিলীপ ঘোষ | পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন। |
| নিশীথ প্রামাণিক | উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ। |
| অগ্নিমিত্রা পল | নারী ও শিশুকল্যাণ। |
| ক্ষুদিরাম টুডু | অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ। |
দপ্তর বণ্টনের রাজনৈতিক তাৎপর্য
- দিলীপ ঘোষ (পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন): বিজেপির এই বর্ষীয়ান নেতার হাতে পঞ্চায়েত দপ্তর দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গ্রামবাংলার তৃণমূল স্তরে সংগঠন মজবুত করা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের (যেমন আবাস যোজনা বা ১০০ দিনের কাজ) সঠিক রূপায়ণ নিশ্চিত করতেই তাঁকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
- নিশীথ প্রামাণিক (উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন): উত্তরবঙ্গে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখতে এবং পাহাড় ও সমতলের উন্নয়নে গতিরোধ সরাতেই কোচবিহারের এই নেতাকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- অগ্নিমিত্রা পল (নারী ও শিশুকল্যাণ): বিধানসভা নির্বাচনে মহিলাদের নিরাপত্তা ছিল বিজেপির প্রধান ইস্যু। দলের অন্যতম মহিলা মুখ অগ্নিমিত্রা পলের হাতে এই দপ্তর দিয়ে নারী সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি পালনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে সরকার।
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের বড় সিদ্ধান্তসমূহ
মন্ত্রীরা দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পাশাপাশি প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন:
- আয়ুষ্মান ভারত: রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ অবিলম্বে চালুর সিদ্ধান্ত।
- চাকরির বয়সসীমা: সরকারি চাকরির আবেদনের উর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানোর ঘোষণা।
- বিএসএফ-কে জমি: সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-এর জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় অনুমোদন।
- আইনি সংস্কার: রাজ্যে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) কার্যকর করা।
আগামী সোমবার পুনরায় ক্যাবিনেট বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বকেয়া ডিএ, পে-কমিশন এবং আরজি কর কাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপ ও দপ্তর বণ্টন থেকে স্পষ্ট যে, গ্রামবাংলা, উত্তরবঙ্গ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকেই পাখির চোখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
