বিদায়ী বেলাতেও ডিজিটাল দুনিয়ায় ‘মুখ্যমন্ত্রী’ মমতা! সাংবিধানিক সংকটে পশ্চিমবঙ্গ

বিদায়ী বেলাতেও ডিজিটাল দুনিয়ায় ‘মুখ্যমন্ত্রী’ মমতা! সাংবিধানিক সংকটে পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সাক্ষী থাকছে রাজ্য রাজনীতি। গত সোমবার ঘোষিত ফলাফলে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও ইস্তফা দেননি। এর ফলে বৃহস্পতিবার সরকারের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সমাজমাধ্যমে নিজের পরিচয়ে ‘প্রাক্তন’ শব্দ যুক্ত করতে নারাজ তিনি। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এখনও তাঁর নামের পাশে ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয়টি বহাল রয়েছে।

ইস্তফা না দেওয়ায় আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা

নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন বিজেপি দখল করলেও জনগণের রায় মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর কেন্দ্রে পরাজিত হওয়ার পর তিনি ভোট লুটের অভিযোগ তুলে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী, পরাজয়ের পর রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়াই দস্তুর। কিন্তু তৃণমূল শিবিরের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রতিবাদেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা না দিয়ে নিজেকে বরখাস্ত করানোর পথে হাঁটতে চাইছেন। তবে রাজ্যপাল টিএন রবি বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও মমতাকে বরখাস্ত করেননি।

রাজ্য শাসনে সাময়িক অনিশ্চয়তা

বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাজ্য এক অদ্ভুত প্রশাসনিক শূন্যতার মধ্যে পড়েছে। বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়ায় মন্ত্রিসভার আর অস্তিত্ব নেই, অথচ নতুন সরকারও শপথ নেয়নি। সাধারণত এই অন্তর্বর্তী সময়ে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন রাজ্যপাল, যা এক্ষেত্রে ঘটেনি। ফলে শনিবার ব্রিগেডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের আগে পর্যন্ত রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দেড় দিন রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে সরাসরি নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান বাংলার সংসদীয় ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *