বিদ্যুৎ বিলে আর প্রিপেইড ঝামেলা নয়! এবার সরকারি কর্মীদের বাড়ি দিয়ে শুরু হচ্ছে ‘পোস্ট-পেইড’ স্মার্ট মিটার – এবেলা

বিদ্যুৎ বিলে আর প্রিপেইড ঝামেলা নয়! এবার সরকারি কর্মীদের বাড়ি দিয়ে শুরু হচ্ছে ‘পোস্ট-পেইড’ স্মার্ট মিটার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: রাজ্যে স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার চালু করা নিয়ে আমজনতার ক্ষোভ ও উদ্বেগ দূর করতে এবার একজোড়া মাস্টারস্ট্রোক দিল রাজ্য সরকার। আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর প্রিপেইড নয়, মোবাইল বিলের মতো মাসের শেষে ‘পোস্ট-পেইড’ বিলিংয়ের সুবিধা নিয়ে ফিরছে স্মার্ট মিটার। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষের মনে ভরসা জোগাতে প্রথম ধাপে আমজনতার বদলে রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং সরকার-পোষিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আবাসনে এই মিটার বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

গত বছর প্রিপেইড স্মার্ট মিটার চালুর পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক জনঅসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বহু গ্রাহক অভিযোগ করেছিলেন যে, নতুন মিটার আসতেই বিদ্যুতের বিল অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছে। তার ওপর মোবাইলের মতো আগে রিচার্জ করার ঝক্কি এবং টাকা শেষ হলেই হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে যাওয়ার সমস্যায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বছর এই কর্মসূচি কার্যত স্থগিত করে দেওয়া হয়।

তবে এবার কেন্দ্রের ‘রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম’ (RDSS) বাস্তবায়নে কোমর বেঁধে নেমেছে নতুন সরকার। আর তাই সাধারণ মানুষের আপত্তি মেটাতে আনা হয়েছে দুটি বড় বদল:

১. প্রিপেইড নয়, এবার পোস্ট-পেইড: স্মার্ট মিটার এলেও গ্রাহকদের আর আগে থেকে টাকা রিচার্জ করতে হবে না। বর্তমান ব্যবস্থার মতোই পুরো মাস নিশ্চিন্তে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর মাসের শেষে বিল আসবে।

২. প্রথম টার্গেট সরকারি আবাসন: সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এড়াতে এটিকে এক ধরণের ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে দেখছে প্রশাসন। প্রথমে সরকারি কর্মীদের বাড়িতে এই মিটার বসিয়ে দেখা হবে কোনও কারিগরি ত্রুটি বা বিলিংয়ের সমস্যা হচ্ছে কি না। সেখানে সাফল্য মিললে তবেই আমজনতার দুয়ারে যাবে এই মিটার।

ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৯২ হাজার সরকারি অফিসের মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার অফিসে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শেষ। আগামী আগস্টের মধ্যে বাকি অফিসগুলির কাজও সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, বিতর্ক এড়িয়ে ধাপে ধাপে এবং সতর্কভাবে পা ফেলে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করাই এখন রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *