বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতেই চরম শাস্তি! পদ খোয়ালেন মালা রায়, তৃণমূলের নতুন মহিলা সভানেত্রী আলিফা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে কোন্দল ও অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। সেই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার আরও এক বড় সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দীর্ঘদিনের নেত্রী তথা কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায়কে মহিলা তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। তাঁর জায়গায় নতুন সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদকে। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই রদবদলের কথা জানানো হয়েছে।
দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই আলিফা আহমেদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই নতুন দায়িত্বের কথা জানিয়েছেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে মালা রায়!
তৃণমূল সূত্রে খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করে ‘বিক্ষুব্ধ’ শিবিরের সঙ্গে মালা রায়ের ঘনিষ্ঠতাই তাঁর পদ খোয়ানোর প্রধান কারণ। সম্প্রতি দিল্লিতে এনডিএ-সমর্থক অবস্থান নেওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে যে ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী সক্রিয় হয়েছে, সেখানে মালা রায়কেও দেখা যায়। এমনকি এনডিএ-কে সমর্থন জানিয়ে একটি প্রস্তাবপত্রেও তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। যদিও দলীয় সূত্রের দাবি, গত ৮ জুন মালা রায় নিজেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে তিনি বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানোর খবর প্রকাশ্যে আসতেই আর দেরি না করে দ্রুত নতুন মুখকে সামনে নিয়ে এল দল।
সাফল্যের পুরস্কার পেলেন আলিফা:
আগে মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর দায়িত্বে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর দায়িত্ব পান মালা রায়। এবার সেই ব্যাটন তুলে দেওয়া হলো আলিফা আহমেদের হাতে। ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও কালীগঞ্জ থেকে দলের আস্থা বজায় রেখেছিলেন তিনি। এবার সেই সাংগঠনিক সাফল্যেরই বড় পুরস্কার পেলেন আলিফা।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে একটি ভিডিও বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আলিফা। একই সঙ্গে দলের এই কঠিন সময়ে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করার তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন নতুন মহিলা সভানেত্রী।
