বিধায়কের ঘনঘন দলবদল ও SIR ইস্যুতে সরব তৃণমূল, কালিয়াগঞ্জে এবার কি ফুটবে ঘাসফুল? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কালিয়াগঞ্জ: একদা বাম এবং পরে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সীর দুর্গে গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে দাপট দেখিয়েছিল পদ্ম শিবির। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর দিনাজপুরের এই হাই-ভোল্টেজ আসনটি ছিনিয়ে নিতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। উন্নয়নের খতিয়ান আর বিজেপির ‘দলবদলু’ ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করেই ময়দানে নেমেছে শাসক দল।
তৃণমূলের তুরুপের তাস
তৃণমূল শিবিরের দাবি, কালিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র সৌমেন রায় বিজেপির টিকিটে জিতে তৃণমূলে যোগ দেন, আবার পরে ফিরে যান বিজেপিতে। বিধায়কের এই বারবার দলবদল ভালো চোখে দেখছেন না সাধারণ ভোটাররা। এছাড়া সম্প্রতি এসআইআর (SIR) হিয়ারিং পর্বে স্থানীয়দের হেনস্থার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তৃণমূল জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালের কথায়, “মেরুকরণ নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের উন্নয়নই আমাদের প্রধান অস্ত্র। বিজেপির হাত থেকে কালিয়াগঞ্জ ছিনিয়ে নিতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
আত্মবিশ্বাসী বিজেপি
অন্যদিকে, গত নির্বাচনে প্রায় ২১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় এবং লোকসভা নির্বাচনে লিড বজায় থাকায় যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী গেরুয়া শিবির। জেলা বিজেপি সভাপতি নিমাই কবিরাজ পাল্টা তোপ দেগে জানিয়েছেন, “তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ ফুঁসছে। এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূল ও পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, সাধারণ মানুষ ইভিএম-এ তার জবাব দেবে।”
৭৬ শতাংশ হিন্দু ভোটার অধ্যুষিত এবং রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক প্রভাবিত এই আসনে শেষ হাসি কে হাসবে, তা নিয়ে এখন থেকেই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। একদিকে তৃণমূলের উন্নয়ন আর সাংগঠনিক শক্তি, অন্যদিকে বিজেপির মেরুকরণ ও পুরনো লিড— দুইয়ের লড়াইয়ে কালিয়াগঞ্জ কার দখলে যায়, সেটাই এখন দেখার।

