বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা, বাংলায় এবার শুরু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত যোজনা

বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা, বাংলায় এবার শুরু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত যোজনা

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড়সড় বদল আসতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলায় চালু হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’। নবনির্বাচিত সরকার তাদের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে সবুজ সংকেত দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের কয়েক কোটি সাধারণ মানুষ বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রথম মন্ত্রিসভাতেই মিলবে অনুমোদন

নির্বাচনী সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন, বাংলার উন্নয়নের নতুন যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নতুন সরকার। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে রাজ্যের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য উন্নত মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে জটিল রোগের অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে।

বাড়িতে বসেই মিলবে ডিজিটাল কার্ড

আয়ুষ্মান যোজনার সুবিধা পেতে এখন আর সরকারি দপ্তরে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল এবং সহজতর করা হয়েছে। যোগ্য নাগরিকরা তাদের স্মার্টফোনে ‘আয়ুষ্মান অ্যাপ’ ডাউনলোড করে আধার কার্ড ও রেশন কার্ডের মাধ্যমে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। অ্যাপে লগ-ইন করার পর ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন করলেই ডিজিটাল কার্ড তৈরি হয়ে যাবে, যা পরবর্তীকালে পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করে প্রিন্ট নেওয়া সম্ভব।

যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র

এই প্রকল্পের সুবিধা মূলত সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং অভাবী মানুষের জন্য। তবে যারা নিয়মিত আয়কর প্রদান করেন বা সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত, তারা এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবেন। কার্ড তৈরির জন্য আবেদনকারীর আধার কার্ড, আয়ের শংসাপত্র এবং আধারের সঙ্গে যুক্ত সচল মোবাইল নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের ওপর থেকে চিকিৎসার বিপুল খরচের বোঝা লাঘব হবে। একদিকে যেমন আধুনিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে, অন্যদিকে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুহার কমাতেও এটি বড় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *